অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস (Acute sinusitis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

সাইনাস হলো মুখমন্ডলের সামনের দিকের হাড়ের ভিতরের অংশের ফাকা গহবর এবং এটি মিউকোসা বা শ্লেষ্মা ঝিল্লি দ্বারা আবৃত। এই সাইনাসের প্রদাহ বা ইনফেকশনকে সাইনোসাইটিস বলে। এটি সবচেয়ে বেশি হয় ম্যাক্সিলারী সাইনাস (চোখের নিচে) এবং এথমোয়েড সাইনাসে। ইনফেকশন মারাত্নক হলে তা হাড়কে আক্রান্ত করতে পারে।  এই ইনফেকশন ব্রেইন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লে তা জীবননাশক হতে পারে। কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রে এই অবস্থা দেখা যায়।

কারণ

সাইনোসাইটিসের কারনে নাকের শ্লেষ্মার আবরণ, সাইনাস ও গলা জ্বালাপোড়া করে, সাইনাস ফুলে যায় এবং শ্লেষ্মা স্বাভাবিকভাবে নিসৃত হতে পারে না, মুখমন্ডলে ব্যাথা হয় এবং সাইনোসাইটিসের লক্ষণ দেখা যায়।

আবদ্ধ সাইনাস একটি ভেজা বা সিক্ত অবস্থার সৃষ্টি করে ফলে খুব সহজেই সেখানে ইনফেকশন হয়ে থাকে। তখন এ স্থান থেকে ঘন, হলদেটে বা সবুজাভ পুঁজ নিঃসৃত হয় এবং ইনফেকশনের আরও কিছু লক্ষণ দেখা যায়।

নিম্নলিখিত কারণে এ্যাকিউট সাইনোসাইটিস হতে পারেঃ

  • ভাইরাল ইনফেকশন (Viral infection)
  • ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন (Bacterial infection)
  • ফাঙ্গাল ইনফেকশন (Fungal infection)

নিম্নলিখিত শারীরিক অবস্থার কারণে সাইনোসাইটিসের ঝুঁকি বেশি থাকেঃ

  • এলার্জি যেমন হে ফিভার / জ্বর (Allergies such as hay fever)
  • নাকের পলিপ বা টিউমার (Nasal polyps or tumors)
  • নাকের যে হাড় বা প্রাচীর নাককে দুইভাগে ভাগ করে তার বিকৃতি (Deviated nasal septum)
  • দাঁতের ইনফেকশন (Tooth infection)
  • অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতা (Other medical conditions)

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

amoxycillin amoxycillin + clavulanic acid
azithromycin beclomethasone dipropionate, nasal
cefactor monohydrate ceftazidime pentahydrate
cefuroxime ciprofloxacin
clarithromycin erythromycin
gentamicin imipenem
ipratropium bromide, nasal levofloxacin hemihydrate
meropenem trihydrate moxifloxacin
oxymetazoline hydrochloride, nasal

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
ই-এস-আর (এরাইথ্রোসাইট সেডিমেন্টেশন রেট) (ESR, Erythrocyte Sedimentation Rate)
বায়োপসি (Biopsy)
ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং (এম-আর-আই) (Magnetic resonance imaging (MRI))
এক্স-রে, পি-এন-এস ও-এম বি/ভি (X-ray, PNS OM view)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে যে বিষয়ের কারনে এ্যাকিউট সাইনোসাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়ঃ

  • হে ফিভার / জ্বরের মত বিভিন্ন এলার্জি সাইনাসকে আক্রান্ত করে।
  • সিস্টিক ফাইব্রোসিস, GERD, ইমিউনোগ্লোব্যুলিন, এ্যান্টিবডির অভাব প্রভৃতি সাইনাসকে আক্রান্ত করে।
  • নাকের পলিপ বা টিউমার এবং নাকের যে হাড় বা প্রাচীর নাককে দুইভাগে ভাগ করে তার বিকৃতি।
  • সিগারেটের ধোঁয়ার মত বিভিন্ন দূষক পদার্থ গ্রহন।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ
 পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতি
শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। অপরপক্ষে, কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিক এবং অন্যান্যদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ  সাইনোসাইটিসের প্রাথমিক অবস্থায় এর লক্ষণসমুহ সাধারণ ঠান্ডার লক্ষণের মতই। আবদ্ধ নাক, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, গলা বসে যাওয়া, মুখমন্ডলে চাপ অনুভুত হওয়া প্রভৃতি। সাধারণত, ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে এই লক্ষণগুলো ভালো হয়ে যায়। যদি ভালো না হয় তবে বিভিন্ন চিকিৎসা যেমন, নাকের স্প্রে (nasal spray), নেজাল কোরটিকোস্টেরোয়েডস (nasal corticosteroids), ব্যাথা উপশমকারী ঔষধ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ ।

উত্তরঃ সাইনাস ইনফেকশন সাধারণত নিজেই বাড়তে থাকে, নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো থাকলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবেঃ

১.শরীরের তাপমাত্রা ১০০.৪(৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশী হলে।

২.লক্ষণগুলো ১০ দিনের বেশী স্থায়ী হলে।

৩.সাইনাসে  ঘন ঘন প্রদাহ হলে।

৪.ঔষধ ব্যবহারের ফলেও এটি সহজে ভাল না হলে।

জ্বর এবং বর্ণহীন মিউকাস শ্লেষ্মার সাথে সাথে ক্রমাগত চাপ বা মাথা ব্যাথা অনুভুত হলে এবং যদি  ঘাড় শক্ত হয়ে যায় বা চোখের কাছাকাছি ফুলে যায় তাহলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। এসব লক্ষণ খুবই মারাত্মক অবস্থা নির্দেশ করে।

উত্তর: আমাদের শরীর স্বাভাবিকভাবেই মিউকাস উৎপাদন করে। যখন প্রদাহের জন্য নাসিকাপথ সরু হয়ে যায়, তখন মিউকাসের পরিবহনে ব্যাঘাত ঘটে এবং এর কারনে তা প্রায়ই আক্রান্ত হয়ে পড়ে। যদি অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা এটি ভাল না হয় তবে সাইনাসের অপারেশন করাতে হবে।

হেলথ টিপস্‌

বৈজ্ঞানিকভাবে সাইনাস ইনফেকশনের কোনো প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, তবে NIAID, CDC এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসংস্থা এই সম্বন্ধে কিছু টিপস দিয়েছেন। এগুলো হলঃ

  • প্রায় ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান বা এ্যালকোহল সমৃদ্ধ জেল দিয়ে হাত ধুতে হবে।
  • স্যালাইন স্প্রে দ্বারা নাসিকাপথ সিক্ত বা ভেজা রাখতে হবে।
  • বাসা বা ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উষ্ণ রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে হবে।
  • সিগারেট, সিগারেটের ধোঁয়া এবং যেসব রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে এলে এলার্জির সৃষ্টি হয় সেগুল এড়িয়ে চলতে হবে,আর তা না পারলে কিভাবে এলার্জি ভাল করা যায় তার জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
  • যেসব সুইমিং পুলে ক্লোরিন আছে, সেখানে সাঁতার কাটা যাবে না।
  • বিমানে ভ্রমনের পূর্বে নাকের ড্রপ বা স্প্রে নাকে দিতে হবে যাতে করে যখন বিমানের বায়ু চাপ কমে যায় তখন যেন কোনো সমস্যা না হয়।
  •  প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস আছে এমন খাবার গ্রহন করতে হবে এবং প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে তরল বা পানি পান করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম ফজলুর রহমান

মেডিসিন ( Medicine), কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস,, এমডি(কার্ড),, ডি-কার্ড(ডিইউ),, এমসিপিএস(মেডিসিন),, এফআইসিসি(ইউএসএ)

অধ্যাপক ডাঃ স্বপন চন্দ্র ধর

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology), মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(মেডিসিন), এমডি(গ্যাষ্ট্রো), এমএসিজি(ইউএসে)

ডাঃ সৈয়দ এ.এম আসফারুল আবেদীন

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

এমবিবিএস, ডিএলও(বিএসএমএমইউ), WHO ফেলো(AIIMS)দিল্লি

অধ্যাপক ডাঃ আবুল হোসাইন খান চৌধুরী

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology), মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস(ঢাকা), এফসিপিএস(মেডিসিন), এফএসিসি(ইউএসএ)

অ্যাপক ডাঃ ফেরদৌস আরা জে . জানান

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস ,, এমডি (আমেরিকা ) , এফ আইবিএ (ইংল্যান্ড) , এফসিপিএস (এম) , এফ আরসিপি (এডিন), , এফএসিপি (আমেরিকা)

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ ইউসুফ

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

এমবিবিএস, এমসিপিএস, এফসিপিএস(ইএনটি)

ডাঃ মোঃ ওমর আজিজ আহম্মদ

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

এমবিবিএস, ডিএলও, এমসিপিএস(ইএনটি)

অধ্যাপক কর্নেল ডাঃ মোঃ কুদরত-ই-ইলাহী

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস(ঢাকা), এমসিপিএস , এফসিপিএস(মেডিসিন)