মদ্যপানজনিত লিভারের রোগ (Alcoholic liver disease)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের জন্য অ্যালকোহলিক লিভার ডিজিজ হয়ে থাকে। এর মধ্যে ফ্যাটি লিভার বা লিভারে মেদ জমে যাওয়া, অ্যালকোহলিক হেপাটাইটিস এবং ক্রনিক হেপাটাইটিস রোগও অন্তর্ভুক্ত। যারা অধিক পরিমাণে মদ্যপান করে থাকে তাদের এই রোগ হয়ে থাকে। মদ্যপায়ীদের মধ্যে ১৫-২০ শতাংশের হেপাটাইটিস বা সিরোসিস হয়ে থাকে, যা ধারাবাহিকভাবে লিভারকে অকেজো করে দিতে পারে।

কারণ

এই রোগটি বছরের পর বছর মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে হয়ে থাকে। মদ্যপানের ফলে লিভারে প্রদাহ বা জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হয়। একই সাথে লিভারের টিস্যু নষ্ট হয়ে যায় এবং সিরোসিস হতে পারে। অ্যালকোহলিক লিভার ডিজিজের শেষ পর্যায় হলো লিভার সিরোসিস। যারা মাঝে মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করে তাদের সবার এই রোগটি হয় না। দীর্ঘদিন যাবৎ মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে এই রোগটি হতে পারে। পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের এই রোগটি বেশি হয়ে থাকে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

methyl prednisolone acetate naltrexone hydrochloride
prednisolone ursodeoxycholic acid
vitamin e

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

অ্যালবুমিন (Albumin)
বিলিরুবিন (Bilirubin total/direct/indirect)
ফেরিটিন (Ferritin)
লিভার ফাংশন টেস্ট (Liver function tests)
এস-জি-ও-টি / এ-এস-টি (SGOT/AST)
এস-জি-পি-টি/ এ-এল-টি (SGPT/ALT)
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
পি-টি (প্রোথ্রম্বিন টাইম) (PT (Prothrombin time))
বায়োপসি অফ লিভার (Biopsy of liver)
এইচ-বি-এস-এ-জি (HBSAg)
ইউ-এস-জি ডব্লিউ/এ (USG W/A)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্ললিখিত বিষয়ের কারণে মদ্যপানজনিত লিভারের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়ঃ

  • পরিবারের কারো মদ্যপান জনিত লিভারের রোগ থাকা।
  • মাত্রাতিরিক্ত করা।
  • দেহে পরিমিত পুষ্টির অভাব থাকা ।

অনিয়ন্ত্রিত ভাবে মদ্যপান করলে অ্যাকিউট অ্যালকোহলিক হেপাটাইটিস রোগ হয়ে থাকে। এই রোগ জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে। মহিলাদের চার পেগ (চার একক) এবং পুরুষদের পাঁচ পেগ করে নিয়মিত মদ্যপান করার অভ্যাস থাকলে এই সমস্যা দেখা দেয়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ  পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ  কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। শ্বেতাঙ্গ, হিস্প্যানিক এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ এই ব্যাধি নিরাময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসগত পরিবর্তন হল অ্যালকোহল বা মদ্যপান সম্পূর্ণভাবে পরিহার করা। Disulfiram  এবং  Naltrexone এর মতো ঔষধ মদ্যপান করা থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে। এর সাথে সাথে মদ্যপায়ীদের পরামর্শও প্রয়োজন। পুষ্টিকর খাবারও এক্ষে্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ। মদ্যপান ত্যাগ করার সাথে সাথে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে লিভারের উন্নতি হতে থাকে।

উত্তরঃ রোগটি অনিরাময়যোগ্য হওয়ার পূর্বেই এর চিকিৎসা করতে হবে। কিন্তু যতক্ষণ না মদ্যপান সম্পূর্ণরূপে পরিহার না করা হবে, ততোক্ষণ কোনো ধরনের ঔষধ দ্বারা এই রোগ নিরাময় সম্ভব নয়।

হেলথ টিপস্‌

লিভার বা যকৃত হলো দেহের একটি গুরুত্বপুর্ণ অঙ্গ। শরীরের বিভিন্ন কার্যকলাপ যেমন পরিপাক/হজম, বিপাক, অণুচক্রিকা উৎপাদন, রক্ত জমাট বাঁধা প্রভৃতি লিভারের উপর নির্ভরশীল। অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্যপান করলে  লিভারে সিরোসিস হতে পারে, যার ফলে এই সকল কার্যকলাপ ব্যাহত হয়। যখন একটি সুস্থ্য লিভার সিরোসিস দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন লিভারের সুস্থ্য টিস্যুগুলো তন্তুময় স্কার টিস্যু এবং পিণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।

তলপেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি করা, দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া, শরীরে পানি জমা, পরিপাকে সমস্যা, রক্তচাপ এবং রক্তে গ্লুকোজের উপস্থিতির পরিবর্তন দেখা দেওয়া লিভার সিরোসিসের লক্ষণ।

তবে লিভার হল শরীরের এমন একটি অঙ্গ যা ৭৫% নষ্ট হয়ে গেলেও পুনরায় সম্পূর্ণভাবে কর্মক্ষম হতে পারে। যদি সিরোসিস খুব খারাপ অবস্থায় চলে যায় তারপরেও সঠিক পরিচর্যা করে লিভারকে অধিকতর ক্ষতি থেকে রক্ষা করা যায়। যদি সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা করা না হয় তবে লিভারের গঠন এবং কর্মক্ষমতার পরিবর্তনের ফলে লিভার ফেইলর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

লেঃ কর্নেল ডাঃ মোঃ আমজাদ হোসেন(অবঃ)

মেডিসিন ( Medicine), ডায়াবেটোলজিষ্ট ( Diabetologist)

এমবিবিএস, এফসিজিপি(বিডি), সিসিডি(বারডেম), এমআর এসএইস(লন্ডন)

ডাঃ মোঃ মুইদুল হক

মেডিসিন ( Medicine), পালমোনোলজি ( ফুসফুস) ( Pulmonology)

এমবিবিএস , ডিটিসিডি,, এফআরএসএইচ (লন্ডন)

অধ্যাপক ব্রিঃ জেনাঃ ডাঃ আবদুল্লাহ আল ফারুক

মেডিসিন ( Medicine), পালমোনোলজি ( ফুসফুস) ( Pulmonology)

এমবিবিএস , এফসিপিএস(মেডিসিন), এফআরসিপি(গ্লাসগো), ফেলো পালমনোলজি(চীন)

ডাঃ অশোক দত্ত

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology), মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(মেডিসিন), এমডি(কার্ডিওলজি), এএফএসিসি(ইউএসএ)

ডাঃ শারমিন জাহান

মেডিসিন ( Medicine), এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড মেটাবলিজম ( হরমোন) ( Endocrinology & Metabolism), ডায়াবেটোলজিষ্ট ( Diabetologist)

এমবিবিএস(ডিএমসি), এফসিপিএস(মেডিসিন), এমডি(এন্ডোক্রাইনোলজী)

জেঃ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম

মেডিসিন ( Medicine), অঙ্কোলজি ( ক্যান্সার) ( Oncology)

এমবিবিএ(ঢাকা),, এফসিপিএস(মেডিসিন) , ওজেটি(মেডিসিন অনকোলজী)

ডাঃ মোঃ আরিফুর রহমান

মেডিসিন ( Medicine), কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস(ঢাকা), এফসিপিএস(মেডিসিন), এমডি(কার্ডিওলজি)

ডাঃ সাঈদ হাসান

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস, এফসিপিএস,(মেডিসিন), এমডি(নিউরোমেডিসিন)