অ্যালার্জি জনিত কনজাঙ্কটিভাইটিস (Allergic Conjunctivitis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

যে ঝিল্লি বা পাতলা পর্দা চোখের সাদা অংশকে আবৃত করে রাখে সেটিকে কনজাঙ্কটিভা বলে। অ্যালার্জির কারণে কনজাঙ্কটিভায় সৃষ্ট প্রদাহ বা জ্বালাপোড়াকেই অ্যালার্জিজনিত কনজাঙ্কটিভাইটিস বলা হয়।  একজন ব্যক্তি  বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জিসৃষ্টিকারী বস্তুর প্রভাবে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। অ্যালার্জিজনিত কনজাঙ্কটিভাইটিসের কারণে সাধারণত চোখ লাল হওয়া, ফুলে যাওয়া, চুলকানি হওয়া ও চোখ থেকে অতিরিক্ত অশ্রু নির্গত হওয়ার (ল্যাকরিমেশন) মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এই সমস্যার সাথে যদি নাক দিয়ে পানি পড়া (রাইনাইটিস) যুক্ত হয়, তখন তাকে অ্যালার্জিক রাইনো কনজাঙ্কটিভাইটিস বলে।

কারণ

অ্যালার্জিজনিত কনজাঙ্কটিভাইটিস সাধারণত দুই চোখকেই আক্রান্ত করে। অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী বস্তুর (যেমনঃ রেণু) সংস্পর্শের কারণে এ্ই সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এই ধরনের বস্তুর সংস্পর্শে এলে শরীরে ইমিউনোগ্লোবুলিন ই (আ- জি-ই) নামে এক ধরনের অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হয়। এই অ্যান্টিবডি চোখের মিউকাসের স্তরে অবস্থিত মাস্ট সেল নামক এক ধরনের বিশেষ কোষকে প্রভাবিত/সক্রিয় করে এবং এই কারণে হিস্টামিনসহ কিছু প্রদাহ সৃষ্টিকারী পদার্থ নির্গত হয়। এই হিস্টামিনের নির্গমনের কারণে চোখ লাল হওয়াসহ আরও কিছু অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দেয়। যেসব বস্তুর সংস্পর্শের কারণে এই প্রতিক্রিয়া হয়ে খাকে সেগুলি হলো:

  • ঘরের ধুলাবালি।
  • গাছ ও ঘাসের রেণু।
  • বীজগুটি ।
  • পশুর লোম বা চর্মকণা ।
  • ডিটারজেন্ট পাউডার ।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

desloratadine dexamethasone
fexofenadine hydrochloride ketorolac
ketotifen fumarate, opthalmic lodoxamide tromethamine, opthalmic
loratadine olopatadine hydrochloride, opthalmic
paracetamol

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

ইওসিনোফিল (Eosinophil count)
আই-জি-ই (IgE)

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: পুরুষ ও নারীদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে।

জাত: শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। হিস্প্যানিক, কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির মানুষের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পরতা সম্ভাবনা থাকে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ আপনার শোবার ঘরে এমন কোন বস্তু থাকতে পারে যাতে আপনার অ্যালার্জি আছে। অথবা শুষ্ক চোখ ও এ ক্ষেত্রে দায়ী থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

উত্তর: পিঙ্ক আই সাধারণত ৭-১০ দিন স্থায়ী হয়, কিন্তু অ্যালার্জিজনিত কনজাঙ্কটিভাইটিস তীব্র রূপ ধারণ করে। দুই ধরনের কনজাঙ্কটিভাইটিসের ক্ষেত্রেই চোখে চুলকানি হয় এবং চোখ লাল হয়ে ওঠে। আপনি কোন ধরনের কনজাঙ্কটিভাইটিসে আক্রান্ত তা বোঝার জন্য একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।

হেলথ টিপস্‌

অ্যালার্জিজনিত কনজাঙ্কটিভাইটিসের লক্ষণ প্রশমিত করার জন্য নিম্নে লিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করা যেতে পারে;

  • চুলকানি সৃষ্টিকারী বস্তু এড়িয়ে চলা: যেসব বস্তুর সংস্পর্শে আসলে আপনার চুলকানি হয় সেগুলি থেকে দূরে থাকুন।
  • আর্দ্র আবহাওয়ায় সতর্ক হোন: আর্দ্র আবহাওয়ায় ছত্রাকের কারণে অ্যালার্জি হতে পারে। তাই এমন আবহাওয়া থাকলে সতর্ক হোন।
  • পোষা প্রাণী থেকে দূরে থাকা: পোষা প্রাণীর চামড়া, মূত্র, শুকিয়ে যাওয়া লালা বা লোমের কারণে শরীরে অ্যালার্জির সৃষ্টি হতে পারে। তাই সুরক্ষিত থাকতে পোষা প্রাণী থেকে দূরে থাকুন।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ শারমিনা আলাউদ্দিন

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

এমবিবিএস, ডিও, এফসিপিএস, ফেলোশিপ

অধ্যাপক ব্রিগেঃ জেনারেল ডাঃ নজরুল ইসলাম (অবঃ)

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

ডিও, এফসিপিএস(চক্ষু), ট্রেইনড ইন ফ্যাকো(জার্মানী)(আই ই এইচ)

ডাঃ মোঃ ছায়েদুল হক

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

এমবিবিএস, , এফসিপিএস(চক্ষু), , এমএস(চক্ষু)

ডাঃ মোঃ আব্দুর রশীদ

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

এমবিবিএস(রাজশাহী), ডিও(ডিইউ), এমএস(চক্ষু), ফেলো ডব্লিউ এইচ ও (ইন্ডিয়া)

ডাঃ মোঃ নাসিম পারভেজ

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

এমবিবিএস, ডিও

ডাঃ মোঃ আসাদুজ্জামান

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(চক্ষু)

ডাঃ শমশের আহমদ

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস, ডিও

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক ডাঃ বাহার এম এইচ খান (অবঃ)

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

এমবিবিএস(ঢাকা), এমএস(ইন্ডিয়া), ডিও(ঢাকা), পিজিটি(সিঙ্গাপুর)