রক্তস্বল্পতা (Anemia)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

অ্যানিমিয়া হল এমন একটি শারীরিক সমস্যা যার কারণে দেহের টিস্যুতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহণের জন্য সুস্থ লোহিত কণিকার অভাব বা ঘাটতি দেখা যায়। অ্যানিমিয়া হলে শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা যায়। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন ধরনের রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। তবে রক্তক্ষরণের জন্য রক্তস্বল্পতা বেশি দেখা যায়। রক্তস্বল্পতা ক্ষণস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং এর প্রভাব মৃদু বা তীব্র হতে পারে। বিভিন্ন মেডিকেল প্রসিডিউরস এবং ঔষধের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে বেশ কয়েক ধরনের রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। গুরুতর কোনো রোগের ফলে রক্তশূন্যতা হয়েছে বলে ধারণা হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।

কারণ

রক্তে লোহিত কণিকার অভাব হলে রক্তস্বল্পতা দেখা যায়। নিম্নলিখিত কারণে এটি হয়ে থাকেঃ

  • শরীর যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে লোহিত কণিকা উৎপাদন করতে না পারা।
  • রক্তক্ষরণের মাধ্যমে রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ কমে যাওয়া।
  • লোহিত কণিকা উৎপাদনের চেয়ে ধ্বংসের হার বেশি হয়ে যাওয়া।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

carbonyl iron cimetidine
cyanocobalamine (bi2) famotidine
ferrous sulphate folic acid
iron dextran prednisolone
ranitidine

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

আয়রন, সেরাম (Iron, serum)
টি-আই-বি-সি (Total Iron Binding Capacity, TIBC)
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
এইচ-বি% (হিমোগ্লোবিন) (HB% (Haemoglobin))

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে যে বিষয়ের কারণে রক্তস্বল্পতা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় সেগুলি  হল:

  • যেসব খাবারে আয়রন, ভিটামিন এবং ফলিক এ্যাসিডের পরিমাণ কম এমন খাবার খেলে রক্তস্বল্পতা বেশি হয়।
  • ক্ষুদ্রান্ত্রের ব্যাধি যেমন সিলিয়াক ডিজিজ থাকলে ক্ষুদ্রান্ত্র পুষ্টি ঠিকমত শোষণ করতে পারে না। এই জন্য রক্তস্বল্পতার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • যেসব মহিলার মেনোপজ সঠিক সময়ে হয় না তাদের ঋতুস্রাবের সময় রক্তের সাথে লোহিত কণিকা অধিক পরিমাণে নির্গত হয়। তাই এদের রক্তস্বল্পতা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • বিভিন্ন ক্রনিক ব্যাধি যেমন ক্যান্সার, কিডনি, লিভার ফেইলর বা অন্য কোনো ক্রনিক অবস্থার কারণে রক্তস্বল্পতা হয়ে থাকে।
  • যদি বাবা-মায়ের রক্তস্বল্পতা থাকে তবে সন্তানেরও রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
  • বিভিন্ন ইনফেকশন, রক্তের ব্যাধি, অটোইমিউন ব্যাধি, মাদকাসক্তি, বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে থাকা এবং  লোহিত কণিকার জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো ঔষধ গ্রহণ করলে রক্তস্বল্পতার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতি: শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিক এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ রক্তস্বল্পতার মাত্রা তীব্র হলে রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ কমে যায় থাকে। লোহিত কণিকা মানুষের ত্বকে এক ধরনের বর্ণ সৃষ্টি করে। তাই রক্তস্বল্পতার ফলে মানুষের ত্বক ফ্যাকাসে বা বিবর্ণ মনে হয়।

উত্তরঃ না, রক্তস্বল্পতা ছোঁয়াচে রোগ নয় কারণ এটি রক্তের হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারনে হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু রক্তস্বল্পতা যেমন- থ্যালেসেমিয়া (Thalassemia) বংশগত ভাবে হয়ে থাকে যা মা-বাবার কাছ থেকে সন্তানের হয়ে থাকে।

উত্তরঃ যখন হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়, তখন রক্তস্বল্পতা দেখা যায়। এটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন- ভিটামিন বি ১২ এর অভাব, আয়রনের অভাব, লোহিত কণিকার ধ্বংস হয়ে যাওয়া, বোন ম্যারো (Bone marrow) ঠিকমত কাজ না করা বা এর ত্রুটি প্রভৃতি। অনিয়ন্ত্রিতভাবে অধিক রক্তক্ষরণ হলে এটি তীব্র আকার ধারণ করে। এটি ক্রনিক অবস্থায় পৌঁছালে হার্ট বা অন্যান্য অঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

হেলথ টিপস্‌

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করা যায় না, তবে যে ধরনের রক্তস্বল্পতা আয়রন এবং ভিটামিনের অভাবে হয় সেগুলো ভিটামিনযুক্ত এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে-

  • আয়রনযুক্ত খাবার, যেমন- মাংস, শিম, ডাল, আয়রন-সমৃদ্ধ শস্য, সবুজ শাক-সবজি এবং ড্রাই ফুড।
  • ফলিক এসিড জাতীয় খাবার, যেমন- টক জাতীয় ফলমূল, এর নির্যাস বা জুস, কলা, সবুজ শাক-সবজি, উদ্ভিজ্জ বীজ, রুটি, শস্য এবং পাস্তা।
  • ভিটামিন বি ১২ যুক্ত খাবার, যেমন- মাংস এবং দুগ্ধজাতীয় খাবার।
  • ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার, যেমন- টক জাতীয় ফলমূল, তরমুজ, বেরি প্রভৃতি।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

অধ্যাপক ডাঃ মিনহাজ রহিম চৌধুরী

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology), মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস, এফসিপিএস, ডিডিসিডি, এমডি

মেজর জেনারেল ডাঃ এ.কে.এম শফিউল্লাহ খান(অবঃ)

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস(ঢাকা), এমসিপিএস(পাকিস্তান)

ডাঃ ইন্দ্রজিৎ কুমার দত্ত

মেডিসিন ( Medicine), গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস (ডিএমসি), এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (গ্যাষ্ট্রো)

Mahfuzur Rahman

মেডিসিন ( Medicine), কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস, ডি-কার্ড (এনআইসিভিডি), এমসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (মেডিসিন)

ডাঃ মোঃ আফজাল হোসেন

মেডিসিন ( Medicine)

এম বি বি এস (ঢাকা), বি সি এস (স্বাস্থ্য), এফ সি পি এস (শেষ পর্ব)

ডাঃ রুবায়েত শেখ গিয়াস উদ্দিন

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস(ডিইউ), , এমআরসিপি(ইউ কে), , এমএসিপি(ইউএস)

অধ্যাপক ডাঃএম এ মান্নান

মেডিসিন ( Medicine), এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড মেটাবলিজম ( হরমোন) ( Endocrinology & Metabolism)

এমবিবিএস , এমসিপিএস(মেডিসিন), এমডি(এন্ডোক্রাইনোলজি) , পিএইচডি (এন্ডোক্রাইনোলজি), এফএসিই(ইউএসএ)

ডাঃ মোহাম্মদ আলী

মেডিসিন ( Medicine), কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস(ডিএমসি),, এমসিপিএস(মেডিসিন) , ডি-কার্ড(বিএসএমএমইউ), , এফসিপিএস(মেডিসিন), , সার্টিফাইড ডায়াবেটলজিষ্ট(বারডেম)