ডেঙ্গু জ্বর (Dengue fever)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

ডেঙ্গু জ্বর একটি মশাবাহিত রোগ। এই মশা গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে বেশি থাকে। অল্পমাত্রায় ডেঙ্গু জ্বর হলে এর কারণে উচ্চমাত্রার জ্বর, র‍্যাশ এবং পেশী ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হয়ে থাকে। ডেঙ্গু জ্বর মারাত্মক আকার ধারণ করলে তাকে ডেঙ্গু হেমার‍্যাজিক ফিভার বলে। এই অবস্থায় রোগীর অত্যাধিক রক্তপাত হয়, রক্তচাপ আকস্মিকভাবে কমে যায় এবং এমনকি তার মৃত্যুও হতে পারে।

যেকোনো মানুষেরই ডেঙ্গু হতে পারে। তবে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদের ক্ষেত্রে এ রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করে। ডেঙ্গু জ্বর যে ভাইরাসের কারণে হয় তার কয়েকটি প্রকারভেদ রয়েছে। যার ফলে এটি একাধিকবার হতে পারে। তবে একবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে যে ভাইরাসের জন্য এই জ্বর হয়ে থাকে তা প্রতিরোধের জন্য দেহে রোগ প্রতিরোধকারী কোষ তৈরি হয়ে যায়।


কারণ

চার রকমের ডেঙ্গু ভাইরাস রয়েছে। এই চার রকমের ভাইরাসের যেকোনো একটি্র সংক্রমণের ফলে ডেঙ্গু জ্বর হয়ে থাকে। এই ভাইরাস মানববসতির আশেপাশে থাকা  এডিস (Aedes aegypti) মশার কামড় দ্বারা বিস্তার লাভ করে। ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে মাশ কামড় দিলে এই ভাইরাস তার দেহ থেকে মশার দেহে মধ্যে প্রবেশ করে। এভাবে আক্রান্ত মশা যখন কোনো সুস্থ মানুষকে কামড় দেয় তখন এই ভাইরাস তার  রক্তপ্রবাহের সাথে মিশে যায়।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নের ঔষধগুলো দিয়ে থাকেনঃ

dextran human albumin
paracetamol sodium chloride, iv
lactated ringer's solution

চিকিৎসকেরা এই রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নের টেস্টগুলো দিয়ে থাকেনঃ

ইলেক্ট্রোলাইটস, সেরাম (Electrolytes, serum)
এ-পি-টি-টি (অ্যাক্টিভেটেড পারশিয়াল থ্রম্বোপ্লাস্টিন টাইম) (APTT (Activated Partial Thromboplastin time))
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
পি-টি (প্রোথ্রম্বিন টাইম) (PT (Prothrombin time))
ডেঙ্গু আই-জি-জি (Dengue IgG)
এন্টি ডেঙ্গু আই-জি-জি/আই-জি-এম (Anti Dengue IgG/IgM)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যেসব কারণে ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় সেগুলো হলোঃ

  • ট্রপিকাল ও সাব-ট্রপিকাল অঞ্চলে বসবাস ও ভ্রমণ করলে ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া, পশ্চিম মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ, ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি।
  • ডেঙ্গু ভাইরাস দ্বারা পূর্বে কখনো আক্রান্ত হয়ে থাকলে পরবর্তীতে আবার মারাত্মক লক্ষণসহ ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ বেশি। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১২ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৪ গুণ কম। হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৩ গুণ কম। অন্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ যদি কেউ সন্দেহ করে থাকে যে, সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত তবে অবশ্যই যতো দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এরপর রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ও রোগীর কি কি লক্ষণ দেখা দিয়েছে তা পর্যবেক্ষণের পর সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কিনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

হেলথ টিপস্‌

মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করার মাধ্যমেই ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে লম্বা হাতের জামা পরতে হবে এবং মশা নিরোধক ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। ঘরবাড়ি ও এর আশেপাশে পানি জমতে পারে এমন কোনো পাত্র, টিনের কৌটা, বোতল, অব্যবহৃত টায়ার পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা যাবে না। এমনকি ঘরের ভেতরে যেসব পাত্র পানি জমিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয় সেগুলি ঢেকে রাখতে হবে। ফুলের টব, ফ্রিজ ও এসির নিচে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। দিনের বেলা ঘুমালেও মশারি ব্যবহার করতে হবে। দরজা, জানালা ও ভেন্টিলেটরে মশা প্রতিরোধক জাল ব্যবহার করতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাধারণ জ্বরের মত অ্যাসপিরিন বা অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র প্যারাসিটামল দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ রিয়াজ আহম্মদ

মেডিসিন ( Medicine), কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস,(ঢাকা),, সিসিডি(বারডেম),, পিজিটি(মেডিসিন ও কার্ডিলজি)

ডাঃ মুহাম্মদ মাহফুজুল হক(রায়হান)

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস(ডিএমসি), বিসিএস(স্বাস্থ্য), এফসিপিএস(মেডিসিন)

ডাঃ মোঃ শফিউল ইসালাম

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস(ডিএমসি), বিসিএস , এফসিপিএস (মেডিসিন)

জেঃ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম

মেডিসিন ( Medicine), অঙ্কোলজি ( ক্যান্সার) ( Oncology)

এমবিবিএ(ঢাকা),, এফসিপিএস(মেডিসিন) , ওজেটি(মেডিসিন অনকোলজী)

অধ্যাপক ব্রিঃ জেঃ ডাঃ মোঃ ফজলুল হক

মেডিসিন ( Medicine), নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(মেডিসিন), ডিপ্লোমা নেফ্রোলজী(চীন)

ডাঃ রেজাউল আলম খাঁন

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস, সিসিডি, এমডি

অধ্যাপক মোহাম্মদ হায়দার আলী

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(মেডিসিন)

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম

মেডিসিন ( Medicine), সার্জিক্যাল অনকোলজি ( Surgical oncology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(মেডিসিন), ওজেটি(মেড অনকোলজি)