ডায়াবেটিস জনিত কিডনির রোগ (Diabetic kidney disease)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে কিডনি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। কিডনিতে ছাঁকনের জন্য এক প্রকারের কৈশিক জালিকা থাকে যা গ্লোমেরুলাস নামে পরিচিত। ডায়াবেটিসের কারণে এই গ্লোমেরুলাস নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে কিডনি রক্ত থেকে মূত্রে অস্বাভাবিক পরিমাণে এলবুমিন নামক প্রোটিন নিঃসৃত করে। কিডনির এই ছাঁকন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকলে মূত্রে খুব অল্প পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায়। ডায়াবেটিসের দ্বারা কিডনি নষ্ট হওয়ার প্রথম লক্ষণ হল মূত্রে প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। কিডনি থেকে কি পরিমাণ এলবুমিন নিঃসৃত হয়েছে তার উপর নির্ভর করে ডায়াবেটিসজনিত কিডনির রোগ প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত-

মাইক্রোএলবুমিনুরিয়া (Microalbuminuria): মূত্রে এলবুমিনের পরিমাণ দিনে ৩০-৩০০ মিলি্গ্রাম হলে তাকে মাইক্রোএলবুমিনুরিয়া বলে। এটি ইনসিপিয়েন্ট নেফ্রোপ্যাথি নামেও পরিচিত।

প্রোটেইনিউরিয়া (Proteinuria): মূত্রে এলবুমিনের পরিমাণ দিনে ৩০০ মিলি্গ্রামের বেশি হলে তাকে প্রোটেইনিউরিয়া বলে। কখনও কখনও প্রোটেইনিউরিয়াকে ম্যাক্রোএলবুমিনুরিয়া বা ওভার্ট নেফ্রোপ্যাথিও বলা হয়।

কারণ

বিপাক ক্রিয়ার সাহায্যে আমাদের দেহে প্রোটিন হজম হলে বিভিন্ন প্রকারের বর্জ্য ও দূষিত পদার্থ  উৎপন্ন হয় যা রেচনের সাহায্যে দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয়। আমাদের কিডনিতে ক্যাপিলারী নামক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্ত নালী থাকে। এই ক্যাপিলারীতে অবস্থিত অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র ছাঁকনের কাজ করে থাকে। রক্তনালীতে রক্ত প্রবাহের সময় বর্জ্য ও দূষিত পদার্থ ক্যাপিলারীর ক্ষুদ্রাকারের ছিদ্রে আটকা পড়ে যায়, যা পরবর্তীতে মূত্রের সাহায্যে দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয়। আবার দেহের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন প্রোটিন ও লোহিত রক্ত কণিকা এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে বের হতে পারে না, এর ফলে তা রক্তের সাথে মিশে যায়।

ডায়াবেটিস হলে এই প্রক্রিয়ায় ত্রুটি দেখা দেয়। রক্তে সুগারের পরিমাণ বেড়ে গেলে কিডনিতে রক্ত পরিশোধনের পরিমাণ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে দুষিত পদার্থের সাথে প্রোটিনও মূত্রের মাধ্যমে শরীরে থেকে বেরিয়ে আসে। মূত্রে প্রোটিনের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম থাকলে তাকে মাইক্রোএলবুমিনুরিয়া বলে। এ অবস্থায় বিভিন্ন চিকিৎসার সাহায্যে কিডনি সম্পূর্ণভাবে বিকল হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়। তবে মূত্রে প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে গেলে (ম্যাক্রোএলবুমিনুরিয়া) কিডনির সমস্যা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। যার ফলে কিডনি সম্পূর্ণভাবে বিকল হয়ে যায়। এ অবস্থায় রক্ত পরিশোধনের জন্য ডায়ালেসিস বা কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে হয়।

লক্ষণ

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নের ঔষধগুলো দিয়ে থাকেনঃ

glibenclamide insulin aspart
insulin glargine insulin lispro
insulin regular insulin NPH
acarbose amlodipine
atenolol captopril
diltiazem hydrochloride enalapril maleate
frusemide hydrochlorothiazide
lisinopril losartan potassium
metformin hydrochloride metoprolol tartrate
nifedipine pioglitazone hydrochloride
rosiglitazone valsartan
sitagliptin linagliptin
glipizide miglitol
canagliflozin exenatide
liraglutide pramlintide

চিকিৎসকেরা এই রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নের টেস্টগুলো দিয়ে থাকেনঃ

সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
ইউ-এস-জি কিডনী এন্ড এড্রেনাল (USG kidney & adrenal)
ইউরিন এনালাইসিস (Urinalysis)
গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেশন রেট (Glomerular filtration rate, GFR)
সিরাম ইলেক্ট্রোফোরেসিস (Serum Electrophoresis)
ইউরিনারী ইলেক্ট্রোফোরেসিস (Urinary Electrophoresis)
রেনাল বায়োপসি (Renal Biopsy)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যেকোন ব্যক্তির কিডনির সমস্যা হতে পারে। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু কারণে এ রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যেমনঃ

  • রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে না রাখা।
  • দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস থাকা।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে না রাখা।
  • উচ্চ রক্তচাপ থাকা।
  • পুরুষদের ক্ষেত্রে এ রোগের ঝুঁকি বেশি।

মাইক্রো অ্যালবুমিনুরিয়া দেখা দিলে পরবর্তীতে যেসকল কারণে মূত্রে প্রোটিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে সেগুলো হলোঃ

  • ধূমপান
  • উচ্চ রক্তচাপ ।
  • রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য জাতির ক্ষেত্রে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ বেশি। অপরদিকে, কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ডায়াবেটিস জনিত কিডনি রোগের কারণে অন্যান্য যেসকল শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় সেগুলো হলোঃ

  • কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (Cardiovascular disease)
  • রেটিনোপ্যাথি (Ratinopathy)
  • নিউরোপ্যাথি (Neuropathy)


উত্তর: সাধারণত একবার কিডনিতে সমস্যা দেখা দিলে এবং চিকিৎসা করা না হলে তা ধীরে ধীরে গুরুতর পর্যায়ে চলে যায় এবং এর ফলে কিডনি ফেইলিয়রও হতে পারে। এ অবস্থায় একমাত্র ডায়ালেসিস বা কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের সাহায্যে চিকিৎসা সম্ভব।

হেলথ টিপস্‌

নিম্নলিখিত উপায়ে এ রোগের ঝুঁকির পরিমাণ কমানো যায়-

  • রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • কোলেস্টেরলের এবং এলবুমিনুরিয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে আনা।
  • ধূমপান পরিহার করতে হবে।
  • নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ সহেলী আহমেদ সুইটি

মেডিসিন ( Medicine), নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)

এমবিবিএস, এমডি(নেফ্রোলজি), এসিপিএস(আমেরিকা), এফআইএসএন(কানাডা)

ডাঃ মোঃ আব্দুল মুকিত

নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)

এমবিবিএস, এমডি

ডাঃ মোসাদ্দেক আহমেদ

নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)

এমবিবিএস, ইউএসএমএলই, এমআরসিপি (ইউকে)

ডাঃ মোঃ বাবরুল আলম

নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(মেডিসিন শেষ পর্ব), এমআরসিপি(পার্ট-২)

ডাঃ মোঃ জাকির হোসেন

মেডিসিন ( Medicine), নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)

এমবিবিএস, এমডি(নেফ্রোলজি)

ডাঃ মোঃ রাশেদ আনোয়ার

নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)

এমবিবিএস, এমডি(নেফ্রোলজী)

ডাঃ লেঃ কর্ণেল আব্দুল কুদ্দুস ভূঁইয়া

মেডিসিন ( Medicine), নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)

এমবিবিএস, এমসিপিএস, এফসিপিএস(মেডিসিন), এফসিপিএস(নেফ্রোলজী)

অধ্যাপক ডাঃ শামীম আহমেদ

নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)

এফসিপিএস (নেফ্রোলজি)