ফ্লু (Flu)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা এক ধরনের ভাইরাসজনিত ইনফেকশন। এই ইনফেকশন দ্বারা আমাদের শ্বাসযন্ত্র (নাক, গলা ও ফুসফুস) সংক্রমিত হয়ে থাকে। যে ভাইরাস দ্বারা ডায়রিয়া ও বমি হয়ে থাকে (stomach flu virus) তা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস থেকে ভিন্ন।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ও এর ফলাফল খুব মারাত্মক হয়ে থাকে। যেসব ব্যক্তির ইনফ্লুয়েঞ্জার ঝুঁকি বেশি থাকে তারা হল:

  • শিশু
  • ৬৫ বছরের বয়সের ঊর্ধ্বের ব্যক্তি।
  • গর্ভবতী।
  • কম রোধ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি।
  • যাদের গুরুতর অসুস্থতা রয়েছে।

বছরে একবার Vaccine বা প্রতিষেধক টিকা নেওয়ার মাধ্যমে ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কারণ

ফ্লু আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি কথা বলার সময় বা হাঁচি ও কাশি দেওয়ার সময় এই ফ্লু ভাইরাস বাতাসে ক্ষুদ্রাকারে ভেসে বাড়াতে থাকে। এই ভাইরাস সরাসরি অন্য কোনো ব্যাক্তির শরীরে প্রবেশ করতে পারে। অথবা এই ভাইরাস যদি কোনো বস্তুর উপর থাকে তবে ঐ বস্তু স্পর্শ করার মাধ্যমে তা নাকে, চোখে বা মুখে পৌঁছাতে পারে।

এটি খুবই ছোঁয়াচে এবং এর উপসর্গ দেখা দেওয়ার দিন থেকে শুরু করে পাঁচ থেকে দশ দিন পর্যন্ত এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদের মধ্যে এই ভাইরাস আরও দ্রুত ছড়ায়।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস খুব দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। যদি কারো আগে একবার এ রোগ হয়ে থাকে, তবে তা পরবর্তীতে এই রোগ প্রতিরোধের জন্য শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয়ে যায়। যদি পূর্বের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এবং পরবর্তীতে আক্রান্ত হওয়া  ভাইরাস এক হয় তবেই আগের তৈরি হওয়া এন্টিবডি এর বিরুদ্ধে কাজ করে। নতুন ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই এন্টিবডি কাজ করে না।

লক্ষণ

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মধ্যে সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখতে পানঃ

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নের ঔষধগুলো দিয়ে থাকেনঃ

probenecid oseltamivir
zanamivir peramivir
influenza virus vaccine

চিকিৎসকেরা এই রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নের টেস্টগুলো দিয়ে থাকেনঃ

ইলেক্ট্রোলাইটস, সেরাম (Electrolytes, serum)
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
ভাইরাল কালচার (viral culture)
পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (Polymerase chain reaction, PCR)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো হলঃ

  • ঋতুভেদে যে ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়ে থাকে তা সাধারণত শিশু ও বয়স্কদের (৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে যাদের বয়স) বেশি হয়ে থাকে। কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে H1N1 ভাইরাসের প্রকোপ বেশি।
  • স্বাস্থ্যকর্মী ও যারা শিশুদের যত্ন নিয়ে থাকে তাদের বেশি ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়ে থাকে।
  • নার্সিং হোম ও আর্মি ব্যারাকে বসবাসকারীদের এ রোগের ঝুঁকি বেশি।
  • ক্যান্সারের চিকিৎসা, HIV/AIDS বা নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ (যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে) এর ব্যবহারের ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ইনফ্লুয়েঞ্জার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • এ্যাজমা, ডায়াবেটিস বা হার্টের অসুখের কারণে ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • গর্ভাবস্থায় ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। অপরদিকে কৃঞ্চাঙ্গ, হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ সাধারণ ঠান্ডার ক্ষেত্রে গলা বসে যায়, নাক বন্ধ হয়ে যায় ও কাশি হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে  জ্বর হয়ে থাকে। ফ্লুয়ের ক্ষেত্রে গলা বসে যায় এবং জ্বর হয়ন, একই সাথে মাথাব্যাথা, পেশীতে ব্যাথা, কাশি, নাক ও গলায় আবদ্ধতা থাকতে পারে। তবে এই দুটি সমস্যাই ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে এবং সাধারণত তিন থেকে সাত দিন স্থায়ী হয়।

উত্তরঃ ইনফ্লুয়েঞ্জার দ্বারা না হলেও অনেকেই অন্যান্য অসুস্থতাকে ফ্লু বলা হয়ে থাকে। তবে ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়ে থাকলে অবশ্যই উপসর্গ দেখা দিবে।

উত্তরঃ এই দুই ধরণের ফ্লুয়ের মধ্যে ক্লিনিকাল লক্ষণ ও উপসর্গ একই। তাই এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ভাইরাস পরীক্ষা করতে হবে। যদি এই ইনফেকসন পাখি বা শুকরের সংস্পর্শে বৃদ্ধি পায় তবে বুঝতে হবে এটি বার্ড ফ্লু।

হেলথ টিপস্‌

ফ্লু ও এর বিস্তার বিভিন্নভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেমনঃ

  • সাবান ও পানি দিয়ে নিয়মিত হাত ধুতে হবে। এক্ষেত্রে Hand-santizer ব্যাবহার করা যেতে পারে।
  • বারবার চোখ, নাক ও মুখে হাত লাগানো যাবে না।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে।
  • কেউ ফ্লুতে আক্রান্ত হলে ঘরবাড়ি ও আশপাশ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • হাঁচি ও কাশির সময় টিস্যুর সাহায্যে নাক ও মুখ ঢাকতে হবে এবং ব্যবহৃত টিস্যু ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।
  • যদি কেউ ইনফুয়েঞ্জার মতই কোনো অসুখে আক্রান্ত হয় তবে কোনো ঔষধ ছাড়া জ্বর সারার পর কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা বাসায় বিশ্রাম নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ রেজাউল আলম খাঁন

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস, সিসিডি, এমডি

ডাঃ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর উল আলম (সোহেল)

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস (ডিএমসি), এফসিপিএস (মেডিসিন)

ডাঃ আ.ফ.ম সাইদুর রহমান

মেডিসিন ( Medicine), কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology), পালমোনোলজি ( ফুসফুস) ( Pulmonology)

এমবিবিএস(ডিএমসি), এফসিপিএস(মেডিসিন), ডি-কার্ড, ডিটিসিডি

ডাঃ সুদীপ রঞ্জন দেব

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস(ডিএমসি), এফসিপিএস(মেডিসিন)

ডাঃ মোঃ আহ্‌সান উল্লাহ

ফ্যামিলি মেডিসিন ( Family Medicine)

এমবিবিএস, , এমসিজিপি, এফসিজিএস , সিসিডি(বারডেম)

মেজর জেনারেল ডাঃ এম এ মঈদ সিদ্দিকি (অবঃ)

মেডিসিন ( Medicine), গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমসিপিএস(বিডি), এফআরসিপি(আয়ারল্যান্ড), এফআরসিপি(এডিন), এফসিপিএস(পাক), এফএসিপি(ইউএসএ)

ডাঃ মোঃ এনামুল হক

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস(ডিএমসি) , এমআরসিপি(ইউকে)

ডাঃ মোঃ জাহিদুর রহমান

মেডিসিন ( Medicine), গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস(ডিএমসি), এমডি(গ্যাষ্ট্রোএন্টারোলজি)