ত্বকের ছত্রাকের ইনফেকশন (Fungal infection of the skin)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

এটি ডার্মাটোমাইকোসিস (Dermatomycosis), ফাঙ্গাল স্কীন ডিজিজ (Fungal Skin Disease), কিউটেনাস মাইকোসিস (Cutaneous Mycosis) এবং এপিডার্মোমাইকোসিস (Epidermomycosis) নামেও পরিচিত। ছত্রাকের দ্বারা ত্বকে এই ইনফেকশন তৈরি হয়। ইস্টের (এক ধরনের ছত্রাক) জন্য ক্যান্ডিডিয়াসিস (Candidiasis) হয়ে থাকে এবং মোল্ডের মত ছত্রাকের (Dermatophytes) জন্য দাদ বা Ringworm দেখা দেয়।

কারণ

রোগটি অতি ক্ষুদ্র ছত্রাকের দ্বারা হয়ে থাকে। এই ছত্রাক আমাদের চুল, পায়ের নখ ও চামড়ার বাইরের স্তরের  টিস্যুতে পাওয়া যায়। সাধারণত মোল্ড এবং ইস্টের মত ছত্রাক দ্বারাই ত্বকে ছত্রাকের ইনফেকশন হয়ে থাকে।

লক্ষণ

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মধ্যে সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখতে পানঃ

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নের ঔষধগুলো দিয়ে থাকেনঃ

betamethasone dipropionate, topical betamethasone dipropionate, topical + clotrimazole, topical
betamethasone valerate, topical betamethasone valerate, topical + clotrimazole, topical
clotrimazole, topical econazole nitrate, topical
ketoconazole, topical miconazole, topical
nystatin, topical

চিকিৎসকেরা এই রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নের টেস্টগুলো দিয়ে থাকেনঃ

স্কিন স্ক্র্যপিং এম/ই ফর ফাঙ্গাস (skin scrapings M/E for fungus)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

এ রোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো হল-

  • আর্দ্র ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ছত্রাক সহজে জন্মাতে পারে। এই আবহাওয়ায় কাজ করলে ও অতিরিক্ত ঘামের ফলে এই রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • স্যাঁতসেঁতে জায়গায় খালি পায়ে হাঁটলে এই রোগ হতে পারে। যেসকল জায়গায় জনসমাগম বেশি সেসব জায়গায় ছত্রাকের পরিমাণ বেশি হয়। তাই এসব জায়গায় এই রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে।
  • স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। যার ফলে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • নখ ও ত্বকে কোনো আঘাত পেলে সেথান থেকে ছত্রাক খুব সহজেই আমাদের দেহে প্রবেশ করতে পারে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ বেশি। শ্বেতাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ না। ত্বকে ছত্রাকের ইনফেকশনের জন্য কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় না।

উত্তরঃ প্রতিদিন দুইবার করে এন্টিফাঙ্গাল ক্রিম ব্যবহার করতে হবে এবং এই ক্রিম আক্রান্ত স্থান ভালো না হওয়া পর্যন্ত ব্যবহার করতে হবে।

উত্তরঃ হ্যাঁ, খাদ্যাভাস এক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। শর্করা জাতীয় খাবার ও চিনি এড়িয়ে চলতে হবে। নারিকেলের তেল প্রাকৃতিকভাবেই ছত্রাক প্রতিরোধ করে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ভেষজ উপাদানের এই গুণ রয়েছে।

হেলথ টিপস্‌

কিছু ঘরোয়া উপাদানের সাহায্যে খুব সহজেই এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব। যেমন:

  • আপেল সিডার থেকে তৈরি ভিনেগার।
  • দই।
  • রসুন।
  • চা-পাতার তেল।
  • নারিকেল তেল।
  • চা।
  • কমলা লেবুর খোসা থেকে প্রস্তুতকৃত তেল।
  • অলিভ ওয়েল।
  • হলুদ
  • ক্র্যানবেরি জুস।

অন্য কোন অসুস্থতার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেলে ত্বকে ছত্রাকের ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের জন্য স্টেরয়েড ও এন্টিবায়োটিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এই রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে নিচের টিপসগুলো কাজে লাগতে পারে।

  • ত্বক, বিশেষ করে ত্বকের ভাঁজগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে ও শুষ্ক রাখতে হবে।
  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে, গৃহপালিত পশু-পাখি স্পর্শ করার পর হাত ধুতে হবে।
  • অন্যের ব্যবহৃত তোয়ালে ব্যবহার করা যাবে না।
  • অনেকে একই বাথরুম ব্যবহার করলে সেখানে জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করতে হবে।
  • ব্যায়ামাগারে ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহারের আগে ও পরে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস(ঢাকা), ডিডিভি(ডিইউ), এফআরএসএইচ(লন্ডন)

অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম মাইদুল ইসলাম

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস, , ডিডি(ঢাকা), , এ.ই.এল(প্যারিস), , ডিটিএই(প্যারিস), , এইএসডি এন্ড ভি(প্যারিস), , এফএএডি(ইউএসএ), , এফসিপিএস

অধ্যপাক ডাঃ মোঃ রুহুল আমিন

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস, এমআরসিপি(ইউকে)

ডাঃ সৈয়দ মোহাম্মদ আরীফ

মেডিসিন ( Medicine), গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস,, এফসিপিএস(মেডিসিন),, এমডি(গ্যাস্ট্রো)

অধ্যাপক ডাঃ মতিয়ার রহমান

পালমোনোলজি ( ফুসফুস) ( Pulmonology), ডায়াবেটোলজিষ্ট ( Diabetologist), মেডিসিন ( Medicine)

এম বি বি এস (ডি এম সি), ডি টি সি ডি (ডি ইউ), সি সি ডি (বারডেম)

ডাঃ মোঃ আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী

মেডিসিন ( Medicine), কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস(ডিএমসি), এফসিপিএস(মেডিসিন), এমডি(কার্ডিওলজী)

প্রফেসর ডাঃ ফেরদৌস আরা জে জানান

মেডিসিন ( Medicine), ইন্টারনাল মেডিসিন ( Internal Medicine)

এমবিবিএস, এমডি(ইউএসএ), এফআইবিএ(ইংল্যান্ড), এফসিপিএস(মেডিসিন), এফআরসিপি (এডিন), এফএসিপি(ইউএসএ)

ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান

মেডিসিন ( Medicine), কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস(ঢাকা), বিসিএস(স্বাস্থ্য), ডি-কার্ড(এনআইসিভিডি), এফসিপিএস(মেডিসিন)শেষ-পর্ব