যৌনাঙ্গে হার্পিস (Genital herpes)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

এই রোগ জেনিটাল এইচ-এস-ভি (HSV) এবং হার্পিস জেনিটালিস (Herpes Genitalis)নামেও পরিচিত।

যৌনাঙ্গে হার্পিস (Genital herpes) একটি সাধারণ ইনফেকশন, যা যৌনমিলনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির যৌনাঙ্গ ও এর আশেপাশে ব্যথা, চুলকানি এবং ঘা দেখা যায়। কখনও কখনও এ রোগের কোন লক্ষণ চোখে পড়েনা। আপাতদৃষ্টিতে কোনো লক্ষণ দেখা না দিলেও এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির দ্বারা অনেকেই সংক্রমিত হতে পারে।

হার্পিস সিম্প্লেক্স ভাইরাস (HSV) এর কারণে যৌনাঙ্গে হার্পিস হয়ে থাকে। প্রাথমিকভাবে যৌন সঙ্গমের মাধ্যমে এই ভাইরাস বিস্তার লাভ করে। ইনফেকশনের প্রাথমিক পর্যায়ে এই ভাইরাস আমাদের দেহে সুপ্তাবস্থায় থাকে এবং বছরে কয়েকবার পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠে। ঔষধের মাধ্যমে এই রোগের উপসর্গগুলো থেকে আরোগ্য লাভ করা যায় এবং অন্য ব্যক্তিকে সংক্রমিত করার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কনডম ব্যবহারের মাধ্যমে এই ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

কারণ

দুই ধরনের হার্পিস সিম্প্লেক্স ভাইরাস দ্বারা সংঘটিত ইনফেকশনের কারণে যৌনাঙ্গে হার্পিস হতে পারেঃ

  • এইচ-এস-ভি-১(HSV-1): সাধারণত এর কারণে মুখে জ্বরঠোসা হয়ে থাকে, তবে ওরাল সেক্সের মাধ্যমে এটা যৌনাঙ্গের আশেপাশেও ছড়াতে পারে। এইচ-এস-ভি-২(HSV-2) ভাইরাস দ্বারা আক্রান্তদের এ রোগের সম্ভাবনা বেশী থাকে।
  • এইচ-এস-ভি-২(HSV-2) : সাধারণত এর কারণে যৌনাঙ্গে হার্পিস হয়ে থাকে। যৌন সঙ্গমের মাধ্যমে অথবা শরীরের সংস্পর্শে এলে এ রোগ ছড়াতে পারে। এই রোগ অত্যন্ত সংক্রামক।

শারীরিক সংস্পর্শ অথবা এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে যৌনাঙ্গে হার্পিস হয়ে থাকে। মুখ, যৌনাঙ্গ এবং মলদ্বারের মতো আর্দ্র স্থান এই ইনফেকশন দ্বারা বেশি আক্রান্ত হয়। তার মানে সাধারণত ভ্যাজাইনাল, অ্যানাল অথবা ওরাল সেক্সের (mouth-to-genitals) মাধ্যমে অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশার কারণে এই রোগ বিস্তার লাভ করে। উদাহরণস্বরূপ জ্বরঠোসা আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে ওরাল সেক্সের মাধ্যমে এই ভাইরাস এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করে।

ত্বক বা শরীরের কোন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যেমন আঙ্গুল/হাঁটু ইত্যাদির কাঁটা/ক্ষত স্থান হার্পিস সিম্প্লেক্স ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির সংক্রমিত স্থানের সংস্পর্শে আসলে এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে। হার্পিস ভাইরাসের কারণে আঙ্গুলের ডগায় ঘা/ফোস্কার মত ইনফেকশন দেখতে পাওয়া যায়,  যা হুইট-ল (whitlow) নামে পরিচিত।

একবার এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তি অন্য কোনো আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে অথবা নিজের আক্রান্ত স্থান স্পর্শ করলেও পুনরায় এর দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না । কারণ পোষক দেহের বাইরে এই ভাইরাস জীবিত থাকতে পারে না। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত গামছা, মলমূত্র অথবা অন্যান্য ব্যবহৃত বস্তুর মাধ্যমে এই ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শদিয়ে থাকেন:  

acyclovir famciclovir
fluconazole

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শদিয়ে থাকেন:  

টিস্যু কালচার (Tissue culture)
ডিরেক্ট ফ্লুরেসসেন্ট এন্টিজেন (Direct fluorescent antigen, DFA)
টিজেঙ্ক প্রিপারেশন (Tzanck preparation)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল কারণে এই রোগের  ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে:

  • পুরুষদের তুলনায় মহিলারা সাধারণত এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। সেক্সের মাধ্যমে এই ভাইরাস সহজেই পুরুষদের থেকে মহিলা্দের মধ্যে এবং পরবর্তীতে মহিলাদের থেকে পুরুষদের মধ্যে ছড়ায়।
  • একের অধিক যৌন সঙ্গী থাকলে এই রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: মহিলাদের এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। হিস্প্যানিক, কৃষ্ণাঙ্গ এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

হেলথ টিপস্‌

যৌনাঙ্গে হার্পিস এবং অন্যান্য যৌনরোগ প্রতিরোধ করতে অনিরাপদ যৌন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অথবা ইনফেকশন নেই এমন কোন ব্যক্তির সাথে যৌন সম্পর্ক গড়ার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া নিম্নলিখিত কয়েকটি উপায় অবলম্বন করা যেতে পারেঃ

  • প্রতিবার যৌনমিলনের সময় কনডম ব্যবহার করা।
  • যৌনসঙ্গীর যৌনাঙ্গের আশেপাশে অথবা অন্য কোন আক্রান্ত স্থানের সংস্পর্শে না আসা। 

যৌনাঙ্গে হার্পিস অনেক সময় বিভ্রান্তিকর, লজ্জা, রাগ এবং অন্যন্য মানসিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। অনেক সময় এর জন্য যৌনসঙ্গী্রা এক জন আরেকজন কে দায়ী করে থাকেন অথবা তাদের বর্তমান অথবা সঙ্গীর দ্বারা প্রত্যাখ্যান হওয়ার আশংকা করে থাকেন। এক্ষেত্রে নিজের এই সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। নিজের সঙ্গীর উপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং তার কথা মনযোগ দিয়ে শুনতে হবে। যৌনাঙ্গে হার্পিস দীর্ঘকাল ধরে দেহে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে যা অনেক সময় আক্রান্ত হলেও শনাক্ত করা যায়না। এ রোগের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার জন্য এবং অন্যদের সংক্রমিত করার ঝুঁকি কমানোর জন্য ডাক্তারের শরণাপণ্ণ হতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ মশি উদ্দিন আহমেদ

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস, এমএসসি(ডি.ইউ), এমসিপিএস(ডার্মাটোলোজী)

ডাঃ মোহাম্মদ হাসান আলী খাঁন

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস(ঢাকা), ডিডিভি(ভিয়েনা)

ডাঃ মোঃ আব্দুল্লা-হেল কাফী

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস, ডিডিভি

ডাঃ ফারজানা আফরোজ

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস, এমসিপিএস, এফসিপিএস(যৌন ও চর্ম), এফসিপিএস(যৌন ও চর্ম)

ডাঃ সৈয়দ পি হোসাইন

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস, , ডিডি , এমএসিপি

ডাঃ লোবা নূর

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস(ঢাকা), এমএস(লন্ডন)

ডাঃ মোঃ সফিকুল ইসলাম

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস, ডিডিভি(ডিইউ), এমডি(ডার্মা), এমএমইডি

লে কর্ণেল ডাঃ কাজী সেলিম ইয়াজদী

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস, ডিডিভি(ডিইউ) , এফসিপিএস , এমসিপিএস(ডার্মাটোলজি)