অণ্ডকোষে পানি জমা/হাইড্রোসিল (Hydrocele of the testicle)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

এই রোগটি টেস্টিস হাইড্রোসিল (Testis Hydrocele) নামেও পরিচিত। হাইড্রোসিল হলো অণ্ডকোষকে ঘিরে একটি তরল পূর্ণ থলে যার ফলে অণ্ডথলির ভিতরে ফুলে যায়। হাইড্রোসিল নবজাতকদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং চিকিৎসা ছাড়াই ১ বছরের মধ্যেই তা ভাল হয়ে যায়। প্রাপ্তবয়স্কদের অণ্ডথলিতে কোনো ধরনের আঘাত বা ইনফ্লামেশন (জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ) এর কারণে হাইড্রোসিল হতে পারে।

সাধারণত হাইড্রোসিল বেদনাদায়ক বা ক্ষতিকর নয় এবং চিকিৎসা ছাড়াই এটি ভাল হয়ে যায়। কিন্তু অণ্ডথলি ফুলে গেলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।

কারণ

হাইড্রোসিল জন্মের পূর্বেই হয়ে থাকে। সাধারণত গর্ভাবস্থায় যখন শিশুর বৃদ্ধি হয় তখন শিশুর অণ্ডকোষ তলপেটের গহবর হতে অণ্ডথলি পর্যন্ত নেমে আসে। প্রতিটি অন্ডকোষের সাথে একটি করে থলে থাকে যা এর চারপাশে তরল সরবরাহ করে।

সাধারণত এই তরল পদার্থ শুকিয়ে যায় এবং থলি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এই থলি বন্ধ হয়ে গেলেও এর মধ্যে তরল পদার্থ থাকতে পারে (Noncommunicating hydrocele)। শিশুর জন্মের এক বছরের মধ্যেই এই তরলটি শুকিয়ে যায়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে থলিটি বন্ধ হয় না (Communicating hydrocele)। এটি তার আকার পরিবর্তন করতে পারে বা এটি সংকুচিত হয়ে এর তরল তলপেটের দিকে প্রবাহিত হয়। এর সাথে ইনগুইনাল হার্নিয়া (Inguinal hernia) (কুঁচকিতে যে হার্নিয়া হয়) হয়ে থাকে।

অণ্ডথলিতে কোনো ধরনের আঘাত বা ইনফ্লামেশন (জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ) এর কারণেও হাইড্রোসিল হতে পারে। অণ্ডকোষ বা এপিডিডাইমাইটিস (Epididymitis) (প্রতিটি অণ্ডকোষের পিছনে অবস্থিত ক্ষুদ্র ও প্যাঁচানো নালী) এর ইনফেকশনের কারণে এই ইনফ্লামেশন/প্রদাহ হতে পারে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিতলক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:  

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শদিয়ে থাকেন:  

ডাঁটা সেন্টারে কোন প্রকার তথ্য পাওয়া যায়নি

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শদিয়ে থাকেন:  

ইউ-এস-জি টেস্টিস (USG Testis)
পেলভিক এক্সামিনেশন (pelvic examination)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

বেশিরভাগ হাইড্রোসিল জন্মের সময়ই হয়ে থাকে। নবজাতকদের মধ্যে ১ থেকে ২ শতাংশের হাইড্রোসিল থাকে। যেসব শিশুরা নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই জন্মগ্রহণ করে তাদের হাইড্রোসিল হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যাদের বয়স ৪০ এর উর্ধ্বে তাদের হাইড্রোসিল হতে পারে। যে যে কারণে হাইড্রোসিল হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় তা হলঃ 

  • অণ্ডথলিতে আঘাত (Scrotal injury)
  • বিভিন্ন ইনফেকশন যেমন যৌনবাহিত ইনফেকশন [Sexually transmitted infections (STIs)]

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ  পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ বেশি।

জাতিঃ  কৃষ্ণাঙ্গ এবং হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। শ্বেতাঙ্গ এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ যদি Communicating hydrocele এর চিকিৎসা না করানো হয় তবে তা থেকে হার্নিয়া হতে পারে। এর ফলে অ্যাবডোমিনাল ফ্লুইড অন্ডথলির ভিতর সামনে ও পিছনের দিকে প্রবাহিত হয়। এছাড়াও এর ফলে ক্ষুদ্রান্ত্রের বিভিন্ন উপাদান হাইড্রোসিল চ্যানেল (Hydrocele channel) এর মধ্য দিয়ে অন্ডথলির দিকে প্রবাহিত হয়, যা থেকে হার্নিয়া হতে পারে। যদি এই উপাদান অন্ডথলিতে আটকে যায় তবে তাকে Incarcerated hernia বলে এবং এটি একটি জরুরী অবস্থা।

উত্তরঃ পিছলে পড়ে গিয়ে অণ্ডকোষ বা অণ্ডথলিতে কোনো প্রকার আঘাতের ফলে হাইড্রোসিল হতে পারে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

 উত্তরঃ হাইড্রোসিলে বরফ ব্যবহার করলে ক্ষণিকের জন্য আরাম বোধ হয়।

হেলথ টিপস্‌

যেহেতু জন্মের পূর্বেই হাইড্রোসিল হয়ে থাকে তাই এটি প্রতিরোধ করা যায় না। তবে জন্মের পূর্বেই সঠিক যত্ন নিলে অপরিণত শিশু জন্মানোর ঝুঁকি কম থাকে, এর ফলে হাইড্রোসিল হওয়ার ঝুঁকিও কমে যায়।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ হাফিজ আল-আসাদ

ইউরোলজি ( মূত্রতন্ত্রের সার্জারী) ( Urology)

এমবিবিএস, এমএস(ইউরোজী)

মেজর জেনারেল ডাঃ এইচ. আর. হারুন

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery), ইউরোলজি ( মূত্রতন্ত্রের সার্জারী) ( Urology)

এমবিবিএস(ঢাকা), এফসিপিএস(বিডি), এফআরসিএস, ডি-ইউরোল

ডাঃ সৈয়দা হাসিনা আজম

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস(ডিএমসি), এফসিপিএস(সার্জারী), এফআরসিএস(গ্লাসগো)

ডাঃ সুদীপ দাস গুপ্ত

ইউরোলজি ( মূত্রতন্ত্রের সার্জারী) ( Urology)

এমবিবিএস, এমএস(ইউরোলজি)

অধ্যাপক ডাঃ জান্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(সার্জারী)

ডাঃ ওমর সিদ্দিক

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস, এফসিপিএস (সার্জারী)

ডাঃ খন্দকার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল হাছান

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস, বিসিএস(স্বাস্থ্য), এফসিপিএস(সার্জারী)

সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ প্রবোধ কুমার বিশ্বাস

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস(ঢাকা), এফসিপিএস(সার্জারী)