অন্ত্রের ক্যান্সার (Intestinal cancer)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অন্ত্রের ক্যান্সার বিভিন্ন নামে পরিচিত, যেমন- বাওয়েল বা কোলন ক্যান্সার (Bowel or Colon Cancer), ক্যান্সার অফ ইন্টেস্টাইন (Cancer Of Intestines), ম্যালিগনেন্ট নিউপ্লাজম অফ ইন্টেস্টাইন  (Malignant Neoplasm Of Intestine) এবং কলোরেক্টাল ক্যান্সার (Colorectal cancer)।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৃহদান্ত্রে ক্যান্সারের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের তুলনায় ক্ষুদান্ত্রের ক্যান্সার খুব কম হয়ে থাকে।

কলোরেক্টাল ক্যান্সার অনেকের কাছে বাওয়েল বা কোলন ক্যান্সার নামে পরিচিত। এই ক্যান্সার কোলন বা মলাশয় (rectum) অথবা অ্যাপেন্ডিক্সে (appendix) কোষের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সৃষ্টি হয়। কোলন ক্যান্সার মূলত বৃহদান্ত্রের ক্যান্সার। পরিপাক তন্ত্রের সবচেয়ে নিচের অংশ বা কোলনে এই ক্যান্সার সৃষ্টি হয়ে থাকে। কোলন বা মলাশয়ের শেষের কয়েক ইঞ্চি বা মলদ্বারে যে ক্যান্সার হয়ে থাকে তাকে রেক্টাল ক্যান্সার বলা হয়। এই দুই ধরনের ক্যান্সারকে একত্রে কলোরেক্টাল ক্যান্সার বলা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্ষতিকর নয় এমন ক্ষুদ্রাকার কোষীয় পিণ্ড থেকে কোলন ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়। এই পিণ্ডকে এডেনোমেটাস পলিপ (Adenomatous polyps) বলে। ধীরে ধীরে এই পলিপ থেকে ক্যান্সারের সৃষ্টি হতে পারে। পলিপ আকারে খুব ছোট হয়ে থাকে এবং এই ক্ষেত্রে খুব কমই কোন লক্ষণ বা উপসর্গ প্রকাশ পায়।

কারণ

মানবদেহে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কোষ বিভাজিত হয় ও সংখ্যাবৃদ্ধি করে। কিন্তু কোষ ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে পড়লে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক নতুন কোষ তৈরী হয় ও কোষের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে এই ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলো এর আশেপাশের সুস্থ কোষ ও টিস্যুকে আক্রমণ করে এবং ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

নিম্নলিখিত কারণে কোলন ক্যান্সার হতে পারেঃ

  • কোলন বা মলাশয়ে পলিপস দেখা দেওয়াঃ কোলন অথবা মলাশয়ের অভ্যন্তরীণ দেয়ালে যে পলিপ্‌স বা কোষীয় পিণ্ড দেখা দেয় তা থেকে কোলন ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়। এই পলিপস দেখতে মাশরুমের ন্যায় হতে পারে, আবার মলাশয়ের প্রাচীরে লেগে থাকতে পারে বা গর্তের সৃষ্টি করতে পারে। পলিপস প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার সৃষ্টি করে না। ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই পলিপস অপসারণ করা হলে কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।
  • বংশগত কারণঃ বংশগত কারণে জিনগত পরিবর্তনের ফলে এই ক্যান্সার হতে পারে। বংশগত কারন এই ক্যান্সারের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত না হলে পরিবারের অন্যকারো কোলন ক্যান্সার থাকলে তা এই ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিতলক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শদিয়ে থাকেন:  

capecitabine irinotecan hydrochloride
oxaliplatin 5-Fluorouracil
cetuximab ramucirumab

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শদিয়ে থাকেন:  

ইলেক্ট্রোলাইটস, সেরাম (Electrolytes, serum)
কিডনী ফাংশন টেস্ট (Kidney function test)
লিভার ফাংশন টেস্ট (Liver function tests)
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
কোলোরেক্টাল রিসেকশন (Colorectal resection)
সিটি স্ক্যান অ্যাবডোমেন (CT scan abdomen)
ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ই-সি-জি) (Electrocardiogram, ECG)
ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং (এম-আর-আই) (Magnetic resonance imaging (MRI))
সি-ই-এ (CEA)
পজিট্রন এমিশন টোমোগ্রাফি (Positron emission tomography, PET)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যেসকল কারণে অন্ত্রের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় সেগুলো হলোঃ

  • বয়সঃ সাধারণত ৬৭ বছর বয়সে এই ক্যান্সার নির্ণয়ের ঝুঁকি বেশি থাকে।
  • লিঙ্গঃ মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
  • মদ্যপান ও তামাকের ব্যবহারঃ মদ্যপান ও তামাকের ব্যবহার ক্ষুদ্রান্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • খাদ্যাভাসঃ অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে ক্ষুদ্রান্ত্রের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ডিজিজঃ নিম্নলিখিত গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ডিজিজ ক্ষুদ্রান্ত্রে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়-
  • ক্রোনস ডিজিজ
  • সিলিয়াক ডিজিজ
  • লিম্ফেডেমাঃ লিম্ফ ভেসেলে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে বা ইনফেকশনের কারণে তরল জমতে শুরু করে। এই অবস্থায় ক্ষুদ্রান্ত্রে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ  পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।  শ্বেতাঙ্গ ও অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ কোলোনোস্কপি (Colonoscopy) এর সাহায্যে বৃহদান্ত্র (কোলন, মলাশয় ও মলদ্বার) এর ভিতরের স্তরগুলো সঠিকভাবে পরীক্ষা করা যায়। শরীরের অন্যান্য অংশে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের বিস্তার প্রতিরোধে কোলোনোস্কপি করা হয়। এই পরীক্ষার সাহায্যে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ইনফ্লামড টিস্যু, আলসার এবং পলিপ চিহ্নিত করা হয়। স্ক্রিনিং টেস্টের সাহায্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার ধরা পড়ে যার কারনে যথাযথভাবে এর চিকিৎসা করা সম্ভব হয় এবং সম্পূর্ণভাবে আরোগ্য লাভ করার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

উত্তরঃ স্ক্রিনিং এর সাহায্যে কোনো রোগ লক্ষণ দেখানোর পূর্বেই তা নির্ণয় করা যায়। ক্যান্সার স্ক্রিনিং টেস্টের সাহায্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার ধরা পড়ে বা যেসকল পলিপের কারনে ক্যান্সার হতে পারে তা নির্ণিত হয় এবং তা অপারেশনের সাহায্যে অপসারণ করা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার ধরা পড়লে যথাযথভাবে এর চিকিৎসা করা সম্ভব হয়।

হেলথ টিপস্‌

দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে কোলন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। যেমনঃ

  • বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, শাকসবজি ও শস্যজাতীয় খাবার খেতে হবে। এসব খাবারে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার বা আঁশ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ফলমূল রাখতে হবে।
  • মদ্যপান এড়িয়ে চলতে হবে।
  • ধূমপান সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলতে হবে।
  • নিয়মিত দিনে ৩০ মিনিট করে ব্যায়াম করতে হবে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ হাসান মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস, এমডি(গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি)

অধ্যাপক ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার

অঙ্কোলজি ( ক্যান্সার) ( Oncology)

এমবিবিএস, এমফিল(রেডিওথেরাপি), আইএইএ ফেলো(থাইল্যান্ড, জাপান)

ডাঃ মোঃ বদরুজ্জামান

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস (ঢাকা) ,, পিএইচডি (মেডিসিন উইথ গ্যাষ্টো –লিভার,জাপান )

ডাঃ হাবিব আহমেদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস, বিসিএস(স্বাস্থ্য), এমডি (গ্যস্ট্রোএন্টারোলজি), বারডেম

ডাঃ রকিব উদ্দীন আহমেদ

অঙ্কোলজি ( ক্যান্সার) ( Oncology)

এমবিবিএস, , এমডি(রেডিওথেরাপি)

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আনওয়ারুল কবির

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস, এমডি(গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী)

ডাঃ ইন্দ্রজিৎ কুমার দত্ত

মেডিসিন ( Medicine), গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস (ডিএমসি), এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (গ্যাষ্ট্রো)

ডাঃ সুরা যুকরুপ মমতা হেনা

অঙ্কোলজি ( ক্যান্সার) ( Oncology)

এমবিবিএস, এমসিপিএস, এফসিপিএস