ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (Irritable bowel syndrome)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

এটি ইরিটেবল কোলন (Irritable Colon), স্পাস্টিক কোলন (Spastic Colon), মিউকাস কোলাইটিস (Mucous Colitis) নামেও পরিচিত।

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আই-বি-এস (IBS) হলো বৃহদান্ত্র বা কোলনের একটি সাধারণ ব্যাধি। এর ফলে তলপেটে মোচড় দিয়ে ব্যথা হয়, তলপেট ফেঁপে যায়, পেটে গ্যাস হয় এবং ডায়রিয়া ও কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দেখা দেয়। আই-বি-এস (IBS) একটি ক্রনিক অবস্থা, একে সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।

যদিও এই রোগের লক্ষণগুলো অস্বস্তিকর বা বিরক্তিকর, তবে এর ফলে অন্ত্রের টিস্যুর কোনো পরিবর্তন হয় না বা কোলোরেক্টাল ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় না। ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রোম  বা আই-বি-এস (IBS) ইনফ্লামেটরী বাউয়েল ডিজিজের একটি প্রকারভেদ, এবং এটি আলসারেটিভ কোলাইটিস এবং ক্রন’স ডিজিজের মত নয়।

এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক ব্যক্তিদের মধ্যে তীব্র লক্ষণ দেখা দেয়। কিছু কিছু ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন খাদ্যাভাস, জীবনাযাত্রার নিয়ম-কানুন ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই রোগের তীব্রতা কমিয়ে আনা সম্ভব। বাকিদের জন্য ঔষধ ও পরামর্শের প্রয়োজন।

কারণ

এই রোগের সঠিক কারণ জানা যায়নি। বিভিন্ন কারণে এটি হতে পারে। খাবার পাকস্থলী থেকে পরিপাকনালীর মধ্য দিয়ে বৃহদন্ত্রের শেষ অংশ বা মলাশয়ে যাওয়ার সময় অন্ত্রের প্রাচীর একটি নির্দিষ্ট ছন্দে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংকোচন-প্রসারণ স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত হলে পেটে গ্যাস হয়, পেট ফেঁপে যায় এবং ডায়রিয়া হয়। আবার অন্ত্রের এই সংকোচন-প্রসারণ যদি স্বাভাবিকের তুলনায় ধীর হয়ে পড়ে তাহলে মল শক্ত হয়ে যায়। গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল নার্ভাস সিস্টেমের অস্বাভাবিকতার কারণেও এই রোগ হতে পারে।

এই রোগের সাধারণ কারণগুলি হলঃ

  • বিভিন্ন ধরনের খাবার যেমন-চকোলেট, মশলা ও চর্বি যুক্ত খাবার, ফলমূল, সীম, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি, দুধ ও বিভিন্ন কোমল পানীয় ইত্যাদি অধিক পরিমাণে খাওয়ার ফলে এই রোগ হতে পারে।
  • এই রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অধিক মানসিক চাপের কারণে লক্ষণসমূহের তীব্রতা বেড়ে যায়।
  • হরমোনগত পরিবর্তনের কারণেও এই রোগ হতে পারে।
  • অন্যান্য অসুস্থতা যেমন ইনফেকশাস ডায়রিয়া (গ্যাস্ট্রোয়েনটারাইটিস) বা অন্ত্রে অধিক পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া থাকলে এই রোগ হতে পারে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

amitriptyline ispaghula husk
loperamide hydrochlor mebeverine hydrochloride
methyl cellulose

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
এইচ-বি% (হিমোগ্লোবিন) (HB% (Haemoglobin))
স্টুল আর-এম-ই (Stool R/M/E)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি-

  • যাদের বয়স ৪৫ এর নিচে তাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  • পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ।
  • একটি পরিবারের কোন সদস্যের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম থাকলে অন্যান্য সদস্যদের ক্ষেত্রে এ রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • বিভিন্ন মানসিক সমস্যা যেমন উদ্বেগ, বিষণ্নতা, অস্বাভাবিক ব্যক্তিত্ব (Personality disorder), শৈশবে যৌন হয়রানির শিকার প্রভৃতি কারণে এই রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। মহিলারা পারিবারিকভাবে নির্যাতনের শিকার হলে তাদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • জিনগত কারণেও এটি হতে পারে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ  মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৩ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ কি কারণে এই রোগ ত্বরান্বিত হয় তা জানতে হবে এবং সে ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। এভাবে খুব সহজে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

উত্তরঃ প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। আঁশযুক্ত খাবার যেমন ভুষি, রুটি, শস্য, সীম, ফলমূল এবং শাক-সবজি বেশি খেতে হবে।

হেলথ টিপস্‌

অনেক ক্ষেত্রে দৈনন্দিন খাদ্যাভাস ও জীবনযাত্রার সামান্য পরিবর্তনের সাহায্যে এই রোগের লক্ষণ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

  • আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে ।
  • যেসব খাবার খেলে সমস্যা অনুভূত হয় সেসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
  • সময়মত খাবার খেতে হবে।
  • প্রচুর তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।
  • সতর্কতার সাথে অ্যান্টি-ডায়রিয়াল ঔষধ (Anti-diarrheal medications) এবং ল্যাক্সেটিভ (Laxatives)ব্যবহার করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস(ডিএমসি), এফসিপিএস(মেডিসিন), এমএসিপি(ইউএসএ), এমএসিজি(ইউএসএ), এমডি(গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী)

ডাঃ মোঃ জাহিদুর রহমান

মেডিসিন ( Medicine), গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস(ডিএমসি), এমডি(গ্যাষ্ট্রোএন্টারোলজি)

অধ্যাপক ডাঃ এ.এস.এম বজলুল করিম

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics), গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস(ঢাকা), , এফসিপিএস,, ফেলো শিশু পুষ্টি পরিপাকতন্ত্র ও লিভার ডিজিজেস( অস্ট্রোলিয়া)

ডাঃ রঞ্জিত কুমার বনিক

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস,, এমডি(গ্যাষ্ট্রোএন্টারোলজী)

ডাঃ মোঃ বদরুজ্জামান

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস (ঢাকা) ,, পিএইচডি (মেডিসিন উইথ গ্যাষ্টো –লিভার,জাপান )

ডাঃ মোঃ রাজীবুল আলম

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস , এমডি(গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী)

ডাঃ এম রহমান

মেডিসিন ( Medicine), গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস, এমসিপিএস, ডিএসএম(গ্যাস্ট্রো), এমডি(গ্যাস্ট্রো), এফসিপিএস(মেডিসিন)

ডাঃ মোঃ শোয়েব চৌধুরী

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এম বি বি এস, এম ডি(গ্যাষ্ট্রোএন্টারোলজি)