ল্যারিঞ্জাইটিস/বাকযন্ত্রের প্রদাহ (Laryngitis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

ল্যারিঞ্জাইটিস হলো স্বরনালীর ইনফ্লামেশন বা প্রদাহজনিত রোগ যা ইনফেকশন, ইরিটেশন এবং স্বরনালীর উপর বেশি চাপ প্রয়োগের কারনে হয়ে থাকে।

ভোকাল কর্ড বা স্বরতন্ত্র, স্বরনালী বা স্বরযন্ত্রের ভিতরে অবস্থিত। ভোকাল কর্ড হলো মিউকাস বা শ্লেষ্মার আবরণের দুইটি ভাঁজ যা পেশি ও তরুনাস্থির সমন্বয়ে গঠিত। সাধারণত কম্পনের মাধ্যমে শব্দ সৃষ্টির সময় ভোকাল কর্ড খুব সহজেই খোলে এবং বন্ধ হয়ে যায়।

ল্যারিঞ্জাইটিস হলে ভোকাল কর্ডে ইনফ্লামেশন বা ইরিটেশনের সৃষ্টি হয়। যার ফলে গলার স্বর বিকৃত ও কর্কশ হয়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গলার স্বর একেবারেই পরিবর্তীত হয়ে যায়।

ল্যারিঞ্জাইটিস অ্যাকিউট (স্বল্পকালীন) বা ক্রনিক (দীর্ঘকালীন) হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভাইরাল ইনফেকশন এবং ভোকাল স্ট্রেইনের (Vocal strain) কারনে ল্যারিঞ্জাইটিস হয়ে থাকে। এটি খুব মারাত্নক বা গুরুতর রোগ নয়। তবে গলার কর্কশভাব যদি দীর্ঘদিন ধরে ভাল না হয় তবে তা অন্য কোন শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

কারণ

ল্যারিঞ্জাইটিস হওয়ার কারনগুলো হলোঃ

অ্যাকিউট ল্যারিঞ্জাইটিস (Acute laryngitis):

  • যেসব ভাইরাল ইনফেকশনের কারনে ঠান্ডা লাগে সেসব কারনে অ্যাকিউট ল্যারিঞ্জাইটিস হতে পারে।
  • ভোকাল স্ট্রেইন যা অতিরিক্ত চিৎকার বা স্বরনালীর উপর বেশি চাপ প্রয়োগের কারনে হয়ে থাকে তার ফলে অ্যাকিউট ল্যারিঞ্জাইটিস হয়।
  • বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন যেমন-ডিপথেরিয়ার কারনেও অ্যাকিউট ল্যারিঞ্জাইটিস হতে পারে।

ক্রনিক ল্যারিঞ্জাইটিস (Chronic laryngitis): তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ল্যারিঞ্জাইটিস স্থায়ী হলে, তাকে ক্রনিক ল্যারিঞ্জাইটিস বলে। দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন উত্তেজক পদার্থের সংস্পর্শে থাকলে এই ধরনের ল্যারিঞ্জাইটিস হয়ে থাকে। এর ফলে ভোকাল কর্ডে বিভিন্ন সমস্যা যেমন- ভোকাল কর্ড স্ট্রেইন, ভোকাল কর্ডে পলিপ বা ক্ষুদ্র পিন্ডের সৃষ্টি হয়। নিম্নলিখিত কারনে এই সমস্যা হতে পারেঃ

  • বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের ধোঁয়া, সিগারেটের ধোঁয়া বা অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী পদার্থ গ্রহণ।
  • এসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রোইসোফ্যাগাল রিফ্লাক্স ডিজিস জি-ই-আর-ডি (GERD)
  • ক্রনিক সাইনোসাইটিস
  • অতিরিক্ত অ্যালকোহল ব্যবহার
  • গান গাওয়া বা অন্য কোনো কাজ যার কারনে গলায় চাপ পড়ে।

এসব কারনে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ল্যারিঞ্জাইটিস হতে পারেঃ

  • ব্যাকটেরিয়াল বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন
  • পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন ইনফেকশন

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

esomeprazole lansoprazole
omeprazole amoxycillin

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

টিস্যু কালচার (Tissue culture)
ল্যারিংগোস্কোপি (Laryngoscopy)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে যে বিষয়ের কারনে ল্যারিঞ্জাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হয়ঃ

  • শ্বাসযন্ত্রের ইনফেকশন যেমন- ঠান্ডা-জ্বর, ব্রঙ্কাইটিস বা সাইনোসাইটিস ইত্যাদি কারনে ল্যারিঞ্জাইটিস হতে পারে।
  • ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান করলে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে থাকলে ল্যারিঞ্জাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • অতিরিক্ত চিৎকার করলে, উচ্চস্বরে কথা বললে বা গান গাইলে ল্যারিঞ্জাইটস হতে পারে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ  পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।মহিলাদের এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ  কৃষ্ণাঙ্গ এবং হিস্পানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। শ্বেতাঙ্গ এবং অন্যান্য জাতিদের এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ ল্যারিঞ্জাইটিস হলে গলার স্বর কর্কশ এবং পরিবর্তিত হয়ে যায়। যদি এই অবস্থার উন্নতি যদি সহজে না হয়, তবে ই-এন-টি এন্ডোস্কপি (ENT endoscopy) দ্বারা এই রোগ নির্ণয় করতে হবে।

উত্তরঃ বিভিন্ন ভাইরাল ইনফেকশনের কারনে ল্যারিঞ্জাইটিস হতে পারে। গলার স্বর সম্পূর্ণভাবে ঠিক হতে প্রায় ১ সপ্তাহের বেশি সময় লাগে। অটোল্যারিঙ্গলজিস্ট (নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ) এর পরামর্শ মেনে চললে খুব দ্রুত এই অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব।

হেলথ টিপস্‌

 নিম্নের নিয়মগুলো মেনে চললে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভবঃ

  • গরম পানি দিয়ে গোসল করতে হবে এবং ভাপ নিতে হবে।
  • বেশি জোরে গান গাওয়া বা কথা বলা যাবে না।
  • ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করার জন্য প্রচুর তরল জাতীয় পদার্থ পান করতে হবে। তবে অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইন এর ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে।
  • ফিসফিস করে কথা বলা যাবে না।
  • ধূমপান করা যাবে না। ধূমপায়ীর সঙ্গ এড়িয়ে চলতে হবে।
  • গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করতে হবে। চুয়িং গাম চিবাতে হবেন, এর ফলে গলা আর্দ্র থাকে।
  • যেসব ঔষধ খেলে গলা শুকিয়ে যায় তা গ্রহন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

অধ্যাপক ডাঃ এসএম খোরশেদ মজুমদার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

এমবিবিএস,, এফসিপিএস,, এমএস, , এফআরসিএস

অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ ইউসুফ

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

এমবিবিএস, , এমসিপিএস, , ডি এল ও, , এফসিপিএস

ডাঃ মোঃ খালেদ মাহ্‌মুদ

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

এমবিবিএস, এমসিপিএস(ইএনটি), ডিএলও, এফসিপিএস(ইএনটি)

ডাঃ মোঃ তারিকুল ইসলাম(তারেক)

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

এমবিবিএস, বিসিএস(স্বাস্থ্য), এফসিপিএস(ইএনটি), এমএস(ইএনটি)

ডাঃ মোঃ জাহিদুল ইসলাম রইচ

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

এমবিবিএস(অনার্স), এক্স-এমও(নিউক্লিয়ার মেডিসিন), বিসিএস(স্বাস্থ্য), এমএস(থিসিস-বিএমএসএসইউ), এফসিপিএস(ইএনটি এন্ড হেড নেক সার্জারী)

অধ্যাপক মোঃ আবুল হাসনাত জোয়ারদার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

এমবিবিএস, , এফসিপিএস, , ক্লিনিক্যাল ফেলো ইন অটোলজি(মাদ্রাস)

ডাঃ আহমেদ মিনহাজ সুমন

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

এম বি বি এস, ডি এল ও, এম সি পি এস, এফ সি পি এস (ইএনটি)

অধ্যাপক ডাঃ ফিরোজ আহমেদ খাঁন

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

এমবিএস, এফসিপিএস(ইএনটি)