অস্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

অস্টিওআর্থ্রাইটিস আর্থ্রাইটিসের সবচেয়ে পরিচিত ধরন। এ রোগে মানুষই আক্রান্ত হয়ে থাকে। আমাদের শরীরের হাড় এবং অস্থিসন্ধি/জয়েন্ট সাধারণত তরুনাস্থি (Cartilage) দ্বারা সুরক্ষিত থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই তরুনাস্থি ক্ষয়ে যেতে থাকলে বা নষ্ট হয়ে গেলে অস্টিওআর্থ্রাইটিস দেখা দেয়।

হাড়ের যেকোনো সংযোগস্থলেই (Joint) অস্টিওআর্থ্রাইটিস হতে পারে। তবে সাধারণত এর ফলে আমাদের হাত, হাঁটু, কোমর ও স্পাইনের বা শিরদাঁড়ার সংযোগস্থল বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে।

সময়ের সাথে সাথে অস্টিওআর্থ্রাইটিস আরও খারাপ অবস্থার সৃষ্টি করে এবং এ পর্যায়ে কোনো চিকিৎসা করা সম্ভব হয় না। তবে নিয়মিত ব্যায়াম বা পরিশ্রম করলে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

কারণ

তরুনাস্থি বা Cartilage দুটি হাড়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত হাড়ের শেষপ্রান্তকে যেকোনো ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করে থাকে। এই তরুনাস্থি ক্ষয়ে যেতে থাকলে বা নষ্ট হতে শুরু করলে অস্টিওআর্থ্রাইটিস দেখা দেয়। তরুনাস্থি হল এক প্রকারের দৃঢ় ও পিচ্ছিল টিস্যু যার সাহায্যে আমাদের হাড়ের জয়েন্টগুলো সহজে নড়াচড়া বা কাজ করতে সাহায্য এবং জয়েন্টের হাড়গুলোর মধ্যে ঘর্ষণ প্রতিরোধ করে। অস্টিওআর্থ্রাইটিস হলে তরুণাস্থির পিচ্ছিলভাব কমে গিয়ে তা রুক্ষ ও অমসৃণ হয়ে যায়। তরুণাস্থি সম্পূর্ণভাবে ক্ষয়ে গেলে হাড়গুলো একসাথে জোড়া লেগে যায় এবং দুটি হাড়কে পৃথক করার জন্য আর কোনো আলাদা অংশ থাকে না।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

baclofen betamethasone
capsaicin celecoxib
diclofenac sodium duloxetine hydrochloride
ibuprofen ketoprofen
naproxen paracetamol
tramadol hydrochloride triamcinolone

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
ই-এস-আর (এরাইথ্রোসাইট সেডিমেন্টেশন রেট) (ESR, Erythrocyte Sedimentation Rate)
অ্যারথ্রোসেনটেসিস (Arthrocentesis)
সি-আর-পি কোয়ালিটেটিভ/কোয়ান্টিটেটিভ (CRP qualitative/quantitative)
প্লেইন এক্স-রে (Plain x-ray)
হোল বডি বোন স্ক্যান (Whole body Bone Scan)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো হলঃ

  • বয়স বাড়ার সাথে সাথে এ রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  • স্থূলতা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। শরীরের অতিরিক্ত মেদের কারণে হাঁটু ও কোমরের হাড়ে অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয়।
  • এছাড়া চর্বিযুক্ত টিস্যুর জন্য প্রোটিন উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে যায়। যার ফলে হাড়ের সংযোগস্থলে ক্ষতিকর প্রদাহের সৃষ্টি হয়।
  • জিনগত (gene) কারণে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • খেলাধুলা বা কোনো দুর্ঘটনার জন্য হাড়ের সংযোগস্থলে আঘাত পেলে এ রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • নির্দিষ্ট কিছু কাজের জন্য হাড়ের সংযোগস্থলে বারবার চাপ পড়লে এ রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • কিছু মানুষের জন্মের পর থেকেই হাড়ের গঠনে ও তরুণাস্থিতে ত্রুটি থাকে এবং এই ত্রুটি অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
  • ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রিউমাটয়েড (rheumatic) সমস্যা যেমনঃ গাউট বা গেঁটেবাত (gout) এবং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (rheumatoid arthritis) এ রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।  কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তর: হাড়ের সংযোগস্থলে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা স্বাভাবিক হাঁটাচলা বা নড়াচড়ার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করে। হাড়ের সংযোগস্থলে, পেশীতে বা রগে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা অস্থির স্বাভাবিক কার্যকলাপে বাধার সৃষ্টি করে।

অস্টিওআর্থ্রাইটিসের জন্য তীব্র ব্যাথা ও বিকলাঙ্গতা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম বা অনুশীলন, নিয়ন্ত্রিত ওজন ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

হেলথ টিপস্‌

দৈনন্দিন জীবনে ছোটখাটো কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে খুব সহজে অস্টিওআর্থ্রাইটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেমনঃ

  • নিয়মিত ব্যায়াম ও অনুশীলনের ফলে পেশী দৃঢ় হয়ে ওঠে। নিয়মিত হাঁটা, সাইক্লিং এবং সাঁতার এক্ষেত্রে উপযোগী ব্যায়াম। তবে অতিরিক্ত অনুশীলন করা যাবে না, এতে ব্যথা হতে পারে।
  • ওজন কমাতে হবে ও ওজন সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। কেননা শরীরের অতিরিক্ত মেদের কারণে হাঁটু ও কোমরের হাড়ে অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয়।
  • হাড় ও পেশীর ব্যাথা কমানোর জন্য বরফ ও ঠান্ডা পানি প্রয়োগ করতে হবে বা গরম কাপড়ের সাহায্যে সেক দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
  • ব্যথা উপশমকারী ক্রিম বা জেল লাগাতে হবে।
  • হাড়ে ব্যাথা হলে হাঁটার জন্য ছড়ি বা লাঠি ব্যবহার করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ মোঃ ও এফ জি কিবরিয়া

অর্থোপেডিক সার্জারী ( হাড়) ( Orthopedic Surgery)

এমএস(অর্থোপেডিক্স), ফেলো হ্যান্ড ও মাইক্রোসার্জারী এআিআইএমএস(দিল্লী), এও ফেলো(ট্রমা), এমবিবিএস

ডাঃ মোস্তফা কামরুজ্জামান

মেডিসিন ( Medicine), নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

এমবিবিএস, বিসিএস, এমডি(নিউরোলজী)

ডাঃ একরামুল হক

অর্থোপেডিক সার্জারী ( হাড়) ( Orthopedic Surgery)

এম বি বি এস, ডি-অর্থো (পিজি হাসপাতাল)

ডাঃ মোঃ ইকবাল হোসেন চৌধুরী

অর্থোপেডিক সার্জারী ( হাড়) ( Orthopedic Surgery)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(সার্জারী), এফআরসিএস

ডাঃ মোহাম্মদ হাসান

অর্থোপেডিক সার্জারী ( হাড়) ( Orthopedic Surgery)

এমবিবিএস(ঢাকা), এমএস(অর্থো), এমআরসিএস(এডিন)

ডাঃ মোঃ হাসান মাসুদ

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস(ঢাকা), এমএস(অর্থো), এ ও ফেলো-থাইল্যান্ড

ডাঃ মোঃ নাজিম উদ্দিন

অর্থোপেডিক সার্জারী ( হাড়) ( Orthopedic Surgery)

এমবিবিএস, ডি-অর্থো, ফেলো-ডব্লিউ-এইচ(অস্ট্রোলিয়া)

ডাঃ শাহ মুঃ আমান উল্লাহ

অর্থোপেডিক সার্জারী ( হাড়) ( Orthopedic Surgery)

এমবিবিএস(ঢাকা), এমএস(অর্থো)