ত্বকের ক্যান্সার (Skin cancer)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

ত্বকের কোষ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেলে ত্বকের ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়। এটি বর্তমান সময়ে খুব পরিচিত একটি রোগে পরিণত হয়েছে। সাধারণত শরীরের যেসব অংশ উন্মুক্ত থাকে যেমন মুখ, গলা, পিঠ ও হাতে এই ক্যান্সার বেশি হয়ে থাকে। তবে শরীরের যেসব অংশ ঢাকা থাকে ও সূর্যের আলো পৌঁছায় না সেসব জায়গায়ও এ ক্যান্সার হতে পারে।

ত্বকের ক্যান্সার বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। যেমনঃ

  • বেসাল সেল কার্সিনোমা (Basal cell carcinoma): ত্বকের বেসাল সেলের (এপিডার্মিসের গভিরের স্তর) অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি হলো বেসাল সেল কার্সিনোমা। এর ফলে ত্বকে ক্ষতের ন্যায় দাগের সৃষ্টি হয় এবং লাল বা গোলাপী বর্ণের ছোপ দেখা দেয়। এটি সাধারণত সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে হয়ে থাকে।
  • স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা (Squamous cell carcinoma): প্রায় ২০ শতাংশ ত্বকের ক্যান্সার হলো স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা। সাধারণত দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে এই ক্যান্সার হয়ে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ক্যান্সারের বৈশিষ্ট্যগুলো বেসাল সেল কার্সিনোমার মত হয়ে থাকে। এই ক্যান্সার খুব কমই শরীরের অন্যান্য অংশের ক্ষতি করে থাকে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিউমার দেহের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।
  • ত্বকের অন্যান্য ক্যান্সারগুলো হলো মেলানোমা (melanoma), মার্কেল সেল কার্সিনোমা (Merkel cell carcinoma), এটিপিক্যাল ফাইব্রোক্সেন্থোমা (atypical fibroxanthoma), কিউটেনাস লিম্ফোমা (cutaneous lymphoma) এবং ডার্মাটোফাইব্রোসারকোমা (dermatofibrosarcoma)।

কারণ

ত্বকের উপরের স্তরে অবস্থিত বেসাল সেলের অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির কারণে বেসাল সেল ক্যান্সার হয়ে থাকে। কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা টিউমারে রূপান্তরিত হয়। স্কোয়ামাস সেল ক্যান্সারের ক্ষেত্রে বহিঃত্বকের সাধারণ কোষ থেকেই টিউমার সৃষ্টি হয়। জিনগত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য এই কোষগুলোর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি দেখা দিলে ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে জিনগত বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দেয়।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

econazole emollients
fluocinolone acetonide, topical fluorouracil
econazole nitrate, topical salicylic acid, topical

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

এক্সিশন (Excision)
স্কিন বায়োপসি (Skin Biopsy)
ক্রাইয়োথেরাপি (Cryotherapy)
ফটোকেমোথেরাপি (Photochemotherapy)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যেসh কারণে ত্বকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে সেগুলো হলো:

  • ফর্সা ত্বকে খুব সহজে সানবার্ন হতে পারে। তাই ফর্সা ত্বকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
  • পূর্বে যেকোনো বয়সে সানবার্ন হয়ে থাকলে পরবর্তীতে ত্বকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • দিনের বেলায় বেশিরভাগ সময় ঘরের বাইরে থাকলে, বিশেষ করে সূর্যের আলোতে কাজ করার সময় সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলে এ ক্যান্সার হতে পারে।
  • উষ্ণ ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় বসবাসের কারণে ত্বকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে ত্বকে এমন কোনো ক্ষতের সৃষ্টি হলে ত্বকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কারো এ সমস্যা থাকলে ত্বকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • পূর্বে কখনও ত্বকে ক্যান্সার হলে পরবর্তীতে তা আবার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • শারীরিক অসুস্থতার জন্য দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেলে ত্বকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • রেডিয়েশনের সংস্পর্শে বেশি থাকলে ত্বকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক পদার্থ যেমন আর্সেনিকের কারণেও এ রোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৬ গুণ কম। হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ প্রাথমিক পর্যায়ে ত্বকের ক্যান্সার নির্ণয় করা গেলে তা সম্পূর্ণভাবে নিরাময় সম্ভব। একটি আয়নার সাহায্যে নিজে নিজেই ত্বকের বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ্য করা সম্ভব। যেমনঃ

  • আয়নার সাহায্যে শরীরের উন্মুক্ত স্থান ও পেছনের অংশ পরীক্ষা করতে হবে।
  • কনুই ভাঁজ করে হাতের করতল ও বাহুতে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায় কি না লক্ষ্য করতে হবে।
  • পা, পায়ের পাতা ও আঙুলের মাঝখানে ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে।
  • মাথার ত্বকে কোন অস্বাভাবিকতা অনুভূত হয় কি না, তা চুল আঁচড়ানোর সময় লক্ষ্য করতে হবে।

কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

উত্তরঃ ত্বকে একবার ক্যান্সার হলে পরবর্তীতে তা আবার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এ রোগ থেকে একবার আরোগ্য লাভের পর নিয়মিত চেক-আপ করাতে হবে ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। একই সাথে ত্বকের যেকোনো পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

হেলথ টিপস্‌

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিম্নের নিয়মগুলো মেনে চললে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়:

  • দিনের মাঝামাঝি সময়ে অর্থাৎ দুপুরবেলায় সূর্যালোক এড়িয়ে চলতে হবে।
  • সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
  • সূর্যের আলো প্রতিরোধের জন্য ফুলহাতা কাপড় পরতে হবে।
  • ট্যানিং বেড ব্যবহার করা যাবে না।
  • sun-sensitizing  ক্রিম বা ঔষধ এড়িয়ে চলে হবে।
  • ত্বকে যেকোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস(ঢাকা), ডিডিভি(ডি ইউ), এমসিপিএস(সিউল), এমএসিপি(ইউএসএ)

ডাঃ সফিকুল ইসলাম

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস(ঢাক), এমডি(ডার্মাটোলজি)

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সিরাজুল হক

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস, ডিডিএসসি (ওয়েলস ইউকে)

ডাঃ সৈয়দ পি হোসাইন

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস, , ডিডি , এমএসিপি

মেজর ডাঃ মোঃ মোজাম্মেল হক (অবঃ)

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস (ডিইউ), ডিডিভি , এফপিজিসি (ভিয়েনা) , পিএফটি

ডাঃ আজিজ আহমেদ খান

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস, এমডি

অধ্যাপক কর্ণেল ডাঃ মোঃ আব্দুল লতিফ খান

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এম বি বি এস, ডি ডি ভি (ডি ইউ), এফ সি পি এস (ডার্মাটোলজি)

ডাঃ মোঃ নাজমুল হক সরকার

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস, ডিডিভি, এমসিপিএস