ইষ্ট ইনফেকশন (Yeast infection)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

রোগটি ক্যানডিডিয়াসিস (Candidiasis), থ্রাশ (Thrush), ক্যানডিডোসিস (Candidosis) এবং মনিলিয়াসিস (Moniliasis) নামেও পরিচিত।

ক্যানডিডিয়াসিস  এক ধরনের ফাঙ্গাসজনিত ইনফেকশন, যা মূলত ত্বক. যৌনাঙ্গ, গলা, রক্ত ও মুখকে আক্রান্ত করে থাকে। ক্যানডিডা (Candida) নামক এক ধরনের ইস্টের বৃদ্ধির কারণে এই রোগটি হয়ে থাকে। মানবশরীরে এই ইস্ট সাধারণত অল্প পরিমাণে থাকে।

তবে নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ গ্রহণ এবং শারীরিক সমস্যার জন্য শরীরের উষ্ণ ও আর্দ্র স্থানে এই ফাঙ্গাস অধিক পরিমাণে উৎপন্ন হয়ে থাকে। এ কারণে কিছু অস্বস্তিকর ও গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়।

ক্যানডিডিয়াসিস বিভিন্ন ধরনের হতে পারে:

রোগটি মুখ বা গলার মধ্যে হয়ে থাকলে, একে ওরোফ্যারিঞ্জিয়াল ক্যানডিডিয়াসিস ( oropharyngeal candidiasis) অথবা থ্রাশ বলে।

রোগটি যৌনাঙ্গের আশেপাশে হয়ে থাকলে, একে ইস্ট ইনফেকশন বলে। মহিলাদের ক্ষেত্রে রোগটিকে ভালভোভ্যাজাইনাল ইস্ট ইনফেকশন বলে (vulvovaginal yeast infection)।

যদি ইস্ট শিশুদের নিম্নাংশের ত্বক আক্রান্ত করে, তাহলে একে ডায়পার র‌্যাশ বলে (diaper rash)।

রক্ত যদি সংক্রমিত হয়, তাহলে রোগটিকে ইনভ্যাসিভ ক্যানডিডিয়াসিস (candidiasis) বা ক্যানডিডেমিয়া ( candidemia) বলে।

এই রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা শরীরের কোন অংশ আক্রান্ত হয়েছে, তার উপর নির্ভর করে।

কারণ

আমাদের শরীরে স্বাভাবিকভাবে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের মতো নানা ধরনের জীবাণু বসবাস করে। এগুলির মধ্যে কিছু কিছু শরীরের জন্য উপকারী, এবং কিছু কিছু শরীরে ক্ষতিকারক ইনফেকশন সৃষ্টি করে থাকে।

চুল, নখ ও ত্বকের বহিঃস্তরে অবস্থিত ফাঙ্গাসের কারণে কিছু ইনফেকশন সৃষ্টি হয়। মোল্ডের মতো ফাঙ্গাস [ডার্মাটোফাইট (dermatophytes), যার কারণে টিনিয়া (tinea) ইনফেকশন সৃষ্টি হয়] এবং ইস্টের মতো ফাঙ্গাসের (যেমন ক্যানডিডা) কারনে এই সমস্যা দেখা দেয়

কিউটেনিয়াস ক্যানডিডিয়াসিসের ক্ষেত্রে (cutaneous candidiasis) ত্বক ক্যানডিডা নামক ফাঙ্গাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। এই রোগটি প্রায়ই দেখা যায়। এটি ত্বকের যে কোনো অংশকেই আক্রান্ত করতে পারে, তবে শরীরের উষ্ণ, আর্দ্র ও ভাঁজযুক্ত অংশগুলিতে ইনফেকশন বেশি দেখা যায়। ক্যানডিডা আলবিকানস্‌ নামক ফাঙ্গাসের কারণে কিউটেনাস ক্যানডিডিয়সিস বেশি হয়ে থাকে।

শিশুদের ডায়াপার র‌্যাশের মূল কারণ ক্যানডিডা। ডায়পারের ভিতরকার উষ্ণ ও আর্দ্র অবস্থা ক্যানডিডার জন্য অনুকূল। এছাড়া  ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ও অতিরিক্ত স্থূলকায় ব্যক্তিদের ক্যানডিডা ইনফেকশন বেশি হয়ে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড থেরাপি এবং কেমোথেরাপি গ্রহণের কারণেও কিউটেনাস ক্যানডিডিয়সিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ক্যানডিডা নখ (onychomycosis), নখের কোণা (paronychia) ও মুখের কোণায় (angular cheilitis) ইনফেকশনে সৃষ্টি করতে পারে।

মুখের/ঠোটের মিউকাস মেমব্রেন এ ওরাল থ্রাশ নামক এক ধরনের ক্যানডিডা ইনফেকশন হয়। এটি অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের সাথে সম্পর্কযুক্ত। প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে এই ইনফেকশন এইচ-আই-ভি সংক্রমণ বা শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার ত্রুটির (immunodeficiency disorders) কারণেও দেখা দিতে পারে। ক্যানডিডা ইনফেকশনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীর থেকে সাধারণত এই রোগের সংক্রমণ ঘটে না। তবে যাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম (রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা) দুর্বল, তাদের শরীরে এটি সংক্রমিত হতে পারে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্নে লিখিত বিষয়গুলি ইস্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়:

  • শরীরের অতিরিক্ত ওজন।
  • গরম আবহাওয়া।
  • আঁটোসাঁটো পোশাক পরা।
  • অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।
  • সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ
  • পোশাক কম পরিবর্তন করা।
  •  স্টেরয়েড এবং ডায়াবেটিস ও প্রেগনেন্সি সম্পর্কিত ঔষধ গ্রহন ।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: নারীদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পরতা সম্ভাবনা থাকে। পুরুষদের মধ্যে এই বয়সের ব্যক্তিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ৩ গুণ কম।

জাত: শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। কৃষ্ণাঙ্গ, হিসপ্যানিক ও অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পরতা সম্ভাবনা থাকে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ ক্যানডিডা ইনফেকশনের কারণে অস্বস্তিবোধ হয়, এবং ফুসকুড়ির জন্য চুলকানি হয়ে থাকে। তবে ক্ষতের বৃদ্ধি রোধ  এবং ইনফেকশনের চিকিৎসা করার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়াগুলি হ্রাস করা সম্ভব।

সাধারণত এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে এই ইনফেকশনের সংক্রমণ ঘটে না। তবে কোনো ব্যক্তির ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হলে তার শরীরে এর সংক্রমণ ঘটতে পারে।

উত্তরঃ চিকিৎসা গ্রহণ করলে কিউটেনিয়াস ক্যানডিডিয়াসিস থেকে নিরাময় লাভ করা যায়, তবে পুনরায় ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। এই রোগের কারণে সাধারণত নিম্নে লিখিত সমস্যা দেখা দেয়:

  • নাখের চারপাশে ইনফেকশন হতে পারে, এবং আক্রান্ত নখের আকারের বিকৃতি ঘটতে পারে।
  • পুনরায় ইনফেকশন দেখা দিতে পারে।
  • যাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল, তাদের শরীরে ক্যানডিডিয়াসিস ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে।

হেলথ টিপস্‌

  • ত্বকের ক্যানডিডা ইনফেকশনের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা অত্যন্ত গুরুতপূর্ণ। ত্বক শুকনো রাখলে, এবং ত্বকে বাতাস লাগতে দিলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। ত্বক শুষ্ককারী পাউডার ব্যবহারের মাধ্যমেও ফাঙ্গাসজনিত ইনফেকশন রোধ করা সম্ভব।
  • শরীরের ওজন বেশি হলে কমিয়ে ফেলা উচিৎ। ওজন স্বাভাবিক হলে কিছু সমস্যা দূরীভূত হবে।
  • ডায়বেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিরা রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করলে উপকার পেতে পারে।
  • ত্বক, মুখ ও যোনীর ইস্ট ইনফেকশন রোধ করার জন্য ফাঙ্গাসরোধী ক্রিম বা মলম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ইনফেকশন তীব্র আকার ধারণ করলে ফাঙ্গাসরোধী ট্যাবলেট/বড়ি গ্রহণ করা প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ রুমিন তামান্না

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

এমবিবিএস, বিসিএস(স্বাস্থ্য), এফসিপিএস(গাইনী এন্ড অবস), পিজিটি(গাইনী এন্ড অবস)

ডাঃ রহিমা সুলতানা তুহীন

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(পার্ট-২), এমএস(কোর্স)

অধ্যাপক ডাঃ কাজী এ করিম

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এমবিবিএস(ঢাকা), ডিডিভি(ভিএন), এমএসভিডি(লন্ডন)

অধ্যাপক ডাঃ শিশির কে. দত্ত

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

এমডি(ইউএসএ), , এফআরসিএস(কানাডা), , এমআরসিওজি(লন্ডন),

অধ্যাপক ডাঃ এম এ ওয়াদুদ

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এম বি বি এস, পি এইচ ডি

লেঃ কর্ণেল ডাঃ নাজনীন আরা খান (অবঃ)

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

এমবিবিএস, ডিজিও, এফসিপিএস(গাইনী এন্ড অবস্)

ডাঃ শিরিন আখতার বেগম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

এমএস(গাইনী), ডিজিও, এমসিপিএস

অধ্যাপক ব্রিগেঃ জেনারেল ডাঃ হাসিনা সুলতানা (অবঃ)

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

এমবিবিএস(ডিএমসি),, ডিজিও(ডিইউ), , এফসিপিএস, গাইনী এন্ড অব্‌স, , ল্যাপারোস্কপিক সার্জন, উচ্চতর প্রশিক্ষন ইনফার্টিলিটি(থাইল্যা