কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (Cardiac arrest)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক না হলে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে পাম্প করে রক্ত সরবরাহ না করতে পারলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (cardiac arrest) হয়ে থাকে। কার্ডিয়াক এ্যারেস্টে আক্রান্ত ব্যক্তির আকস্মিকভাবে মৃত্যুও হতে পারে। ভেনট্রিকুলার ফিব্রিলেশন ( ventricular fibrillation) হলো এই রোগের মূল কারণ। সংক্ষেপে একে ভি-ফিভ (V-fib) বলা হয়। কোনো ব্যক্তির মস্তিষ্কে কয়েক মিনিট ধরে পরিশোধিত রক্ত না পৌঁছলে তিনি অচেতন হয়ে পড়বেন, এবং শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবেন।

কারণ

সাধারণত নিম্নে লিখিত কারণগুলির জন্য কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে থাকে:

  • করোনারি আর্টারি ডিজিজ: করোনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বেশি হয়ে থাকে। করোনারি আর্টারি ডিজিজ হলে ধমনীতে কোলেস্টরল এবং আরও কিছু উপাদান জমাট বাঁধে, ফলে হৃৎপিণ্ডে রক্ত প্রবাহের মাত্রা কমে যায়। এই অবস্থার জন্য হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক ক্রিয়া ব্যাহত হয়।
  • হার্ট অ্যাটাক:  সাধারণত করোনারি আর্টারি ডিজিজের কারণে সৃষ্ট হার্ট অ্যাটাক ভেনট্রিকুলার ফিব্রিলেশন এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সম্ভাবনা তৈরি করে।
  • হৃদপেশীর অস্বাভাবিকতা (কার্ডিওমাইয়োপ্যাথি, cardiomyopathy): হৃৎপিণ্ডের পেশীবহুল দেয়াল প্রসারিত হলে, বৃদ্ধি পেলে বা পুরু হয়ে গেলে সাধারণত এই সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের পেশীতে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় এবং হৃৎপিণ্ডের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বা অ্যারিথমিয়া (arrhythmias) দেখা দিতে পারে।
  • ভালভুলার হার্ট ডিজিজ (valvular heart disease) : হৃৎপিণ্ডের ভাল্ভে ছিদ্র হলে বা ভাল্ভ সংকুচিত হয়ে গেলে হৃৎপিণ্ডের পেশী প্রসারিত বা মোটা হয়ে যেতে পারে। ছিদ্রযুক্ত বা সংকুচিত ভাল্ভের চাপের কারণে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলি দুর্বল বা বড় হয়ে গেলে অ্যারিথমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • হৃৎপিণ্ডের জন্মগত রোগ: হৃৎপিণ্ডের জন্মগত সমস্যার কারণে শিশু-কিশোরদের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের হৃৎপিণ্ডের জন্মগত সমস্যা নিরাময়ের জন্য সার্জারি করার পরও তাদের আকস্মিকভাবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

adenosine adrenaline
atropine sulphate diltiazem hydrochloride
dopamine hydrochloride magnesium sulphate
naloxone hydrochloride sodium bicarbonate

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

ইলেক্ট্রোলাইটস, সেরাম (Electrolytes, serum)
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
কার্ডিওপালমোনারী রেসাসসিটেশন (Cardiopulmonary resuscitation (CPR))
ইকো কার্ডিওগ্রাম ২ডি (Echo cardiogram 2D)
ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ই-সি-জি) (Electrocardiogram, ECG)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই করোনারি আর্টারি ডিজিজের সাথে কার্ডিয়াক ডিজিজ সম্পর্কযুক্ত। তাই যেসব বিষয়গুলি করোনারি আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি বাড়ায়, সেইসব বিষয়গুলিই কার্ডিয়াক এ্যারেস্টের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এমন কিছু বিষয় হল-

  • পরিবারের/বংশের সদস্যদের করোনারি আর্টারি ডিজিজ হওয়া।
  • ধূমপান।
  • উচ্চ রক্তচাপ।
  • শরীরের অতিরিক্ত ওজন/ স্থূলতা।
  • রক্তে কলেস্টোরলের উচ্চমাত্রা।
  • ডায়াবেটিস।
  • কর্মবিমূখতা
  • অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পরতা সম্ভাবনা থাকে। নারীদের মধ্যে এই বয়সের ব্যক্তিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাত:  হিসপ্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ২ গুণ কম। কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পরতা সম্ভাবনা থাকে। অন্যান্য জাতির মানুষের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ হৃৎপিণ্ড রক্ত পাম্প না করলে, সেই  অবস্থাকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বলা হয়। হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক ক্রিয়া ব্যাহত হলে তা প্যারালাইজড হয়ে পড়ে, ফলে রক্ত পাম্পের প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে। এছাড়া হৃদস্পন্দন অতি দ্রুত হয়ে গেলেও এই প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়্ (ভেনট্রিকিউলার ট্যাকিকারডিয়া, ventricular tachycardia) হয়। অ্যাসিসটোল হল এমন এক ধরনের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট,  যার কারণে হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক ক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে থেমে যায়।

উত্তরঃ দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিৎ।

এ বিষয়ে গবেষণালব্ধ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই চিকিৎসকেরা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সময় কাশি দেওয়াকে কার্যকারী কোনো পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দেননি।

হেলথ টিপস্‌

আপনার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়ার ঝুঁকি কতোটা, তা নির্ণয় করা সম্ভব নয়। তাই এই রোগের ঝুঁকি কমানোই হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকারী উপায়্। এ জন্য নিয়মিত চেক-আপ ও হৃৎপিণ্ডের পরীক্ষা করানো, এবং হৃৎপিণ্ডের সুস্থতার জন্য অনুকূল জীবনযাপনের পাশাপাশি নিম্নে লিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করুন:

  • ধূমপান ত্যাগ করুন।
  • পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন।
  • নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

অধ্যাপক ডাঃ এম এ জামান

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমআরসিপি(ইউকে),, এফআরসিপি(গ্লাসগো),, এফআরসিপি(লন্ডন)

ডাঃ লিয়াকত হোসাইন তপন

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এম বি বি এস, বি সি এস (স্বাস্থ্য), ডি-কার্ড, এম এস সি, এইচ এস

অধ্যাপক ডাঃ মহিবুর রহিম

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস,, এমডি(কার্ডিওলজী)

ডাঃ আনিসুর রহমান খান

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস,, এমডি(কার্ডিওলজী)

ডাঃ মোঃ আব্দুল মোত্তালিব

মেডিসিন ( Medicine), কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস(ঢাকা), এফসিপিএস(মেডিসিন), এমডি(কার্ডিওলজী)

অধ্যাপক ডাঃ আবুল হোসাইন খান চৌধুরী

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology), মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস(ঢাকা), এফসিপিএস(মেডিসিন), এফএসিসি(ইউএসএ)

ডাঃ আবু রাফাত মোঃ দীমন

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস, ডি-কার্ড

ডাঃ লৎফুন নাহার বেগম

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস , এমডি (কার্ডিওলজি)