পেরিকার্ডাইটিস (Pericarditis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

হৃৎপিণ্ডের চারপাশে অবস্থিত থলির আকারের  ঝিল্লিকে পেরিকার্ডিয়াম (pericardium)  বলে।  পেরিকার্ডিয়াম ফুলে ওঠা এবং সেখানে প্রদাহের সৃষ্টি হওয়াকেই পেরিকার্ডাইটিস বলে। সাধারণত পেরিকার্ডাইটিসের কারণে বুকে ব্যথা সৃষ্টি হয়, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্য ধরনের লক্ষণও দেখা দিতে পারে। পেরিকার্ডিয়ামের প্রদাহযুক্ত স্তরগুলির মধ্যে ঘর্ষণ হলে বুকে তীব্র ব্যথা হয়।

সাধারণত হঠাৎ করেই পেরিকার্ডাইটিসের সূত্রপাত ঘটে। রোগটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দীর্ঘস্থায়ী হয় না (অ্যাকিউট)।  পেরিকার্ডাইটিস পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকলে এবং স্থায়ী রূপ ধারণ করলে সেটিকে ক্রনিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পেরিকার্ডাইটিস চিকিৎসা ছাড়া এমনিতেই সেরে যায়। রোগটি তীব্র রূপ নিলে ঔষধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় পেরিকার্ডাইটিস নির্ণয় ও চিকিৎসা করা হলে সংশ্লিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

কারণ

পেরিকার্ডাইটিসের  সঠিক কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্ণয় করা যায় না। নিম্নে কিছু সম্ভাব্য কারণ লিখিত হল:

  • ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসজনিত ইনফেকশন।
  • হার্ট অ্যাটাক।
  • রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও লুপাসের মতো ইনফ্লামেটরি ডিজিজ (প্রদাহ/জ্বালাপোড়াজনিত রোগ)।
  • কিডনি ফেইলিয়র।
  • হৃৎপিণ্ডের নিকট অবস্থিত কোনো টিউমার থেকে সৃষ্ট ক্যানসার।
  • বুক, খাদ্যনালী এব হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি করে এমন আঘাত বা সার্জারি।
  • রেডিয়েশন থেরাপি।
  • ইমিউন সিস্টেমের প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

aspirin ibuprofen
indomethacin ketorolac
naproxen prednisolone
colchicine

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

ব্লাড ইউরিয়া নাইট্রোজেন, বি-ইউ-এন (Blood Urea Nitrogen, BUN)
ক্রিয়েটিনিন, সেরাম (Creatinine, Serum)
ইলেক্ট্রোলাইটস, সেরাম (Electrolytes, serum)
ট্রোপোনিন-আই (Troponin-I)
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
ই-এস-আর (এরাইথ্রোসাইট সেডিমেন্টেশন রেট) (ESR, Erythrocyte Sedimentation Rate)
স্পুটাম ফর এ-এফ-বি (Sputum for AFB)
ইকো কার্ডিওগ্রাম ২ডি (Echo cardiogram 2D)
ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ই-সি-জি) (Electrocardiogram, ECG)
সি-আর-পি কোয়ালিটেটিভ/কোয়ান্টিটেটিভ (CRP qualitative/quantitative)
সেরাম ল্যাক্টেট ডিহাইড্রোজিনেজ (Serum lactate dehydrogenase, LDH)
Pericardiocentesis
Pericardial Fluid Analysis

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

লিঙ্গ: পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। নারীদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাত: হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির  মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তর: যদি বেশি পরিমাণে তরল  পেরিকার্ডিয়াল স্যাকের ( pericardial sac) মধ্যে জমা হয়, তাহলে তা হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া ব্যাহত করে এবং রক্তচাপ কমিয়ে দেয়। এই তরল ধীরে ধীরে জমা হতে পরে, বা দ্রুতও জমা হতে পারে। তরল কী হারে জমা হবে তা মূলত পেরিকার্ডাইটিসের  কারণের উপর নির্ভর করে।  পেরিকার্ডিয়াল স্যাকে বেশি পরিমাণ তরল জমা হওয়ার কারণে উচ্চ চাপের সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে দুটি সমস্যা হতে পারে:

  • হৃৎপিণ্ডের নিচের যে প্রকোষ্ঠগুলি পাম্প করে শরীরে রক্ত প্রেরণ করে সেগুলি রক্তপূর্ণ হতে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, কারণ পেরিকার্ডিয়াল স্যাকের মধ্যে থাকা তরল পদার্থ সেগুলিকে রক্তে পূর্ণ হতে বাধা দেয়। ফলে হৃদস্পন্দনের পর রক্ত কম পরিমাণে শরীরে প্রবাহিত হয়।
  • পেরিকার্ডিয়ামের মধ্যে উচ্চ চাপের কারণে হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসা রক্তের পরিমাণ কমে যায়। কম পরিমাণ রক্ত ফিরে আসার কারণে পরবর্তী হৃদস্পন্দনের পর হৃৎপিণ্ড কম পরিমাণ রক্ত পাম্প করে।

উত্তর: হৃৎপিণ্ড এবং পেরিকার্ডিয়াল স্যাকের ভিতরকার  স্থানে তরল পদার্থ জমা হওয়াকে পেরিকার্ডিয়াল ইফিউশন বলে। পেরিকার্ডিইটিসের কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যদি তরল পদার্থ ধীরে ধীরে জমা হয়, এবং এই তরল যদি হৃৎপিণ্ডের জন্য সহনীয় হয়, তাহলে প্রথমে এর কারণ চিহ্নিত করে চিকিৎসা করা  উচিৎ। কিছু ক্ষেত্রে জমা হওয়া তরল অপসারণ করা প্রয়োজন  হতে পারে।

হেলথ টিপস্‌

পেরিকার্ডাইটিস যেহেতু বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যার জন্য সৃষ্টি হয়, তাই রোগটিকে প্রতিরোধ করার নির্দিষ্ট কোনো উপায় নেই। তবে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করে  ইনফেকশনজনিত  পেরিকার্ডাইটিস  প্রতিরোধ করা যেতে পারে, যেমন- নিয়মিত হাত ধোয়া।

হার্ট এ্যাটাকের কারণে সৃষ্ট পেরিকার্ডাইটিস, করোনারি আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি কমানোর মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যেতে পারে। ধূমপান পরিহার, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যগ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, কলেস্টোরলের মাত্রা কমানো এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে করোনারি আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি কমানো যায়।

ট্রমার ( মানসিক আঘাত) সাথে সম্পর্কযুক্ত পেরিকার্ডাইটিসের ঝুঁকি কমানোর জন্য গাড়ি চালানোর সময় সিট-বেল্ট ব্যবহার করা উচিৎ। এছাড়া, যেসব খেলায় শারীরিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকে সেগুলি খেলার সময় বুক সুরক্ষাকারী সরঞ্জাম ব্যবহার করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ মোহাম্মদ উল্লাহ্‌ ফিরোজ

মেডিসিন ( Medicine), কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস, এমডি(কার্ডিওলজী), এফসিপিএস(মেডিসিন)

ডাঃ শাহিন কবির

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস , এমডি (কার্ডিওলজী)

ডাঃ আনিসুর রহমান খান

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস,, এমডি(কার্ডিওলজী)

ডাঃ সমীর কুমার কুন্ডু

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস,, এমডি(কার্ডিওলজী)

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস, এমডি(কার্ডিওলজী)

ডাঃ জয়ন্ত কুমার সাহা

মেডিসিন ( Medicine), কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এম বি বি এস, ডি-কার্ড, এফ সি পি এস (মেডিসিন)

ডাঃ কাজী মোঃ শফিকুর রহমান

মেডিসিন ( Medicine), নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology), কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এম বি বি এস (ঢাকা), এম আর সি পি (ইউ কে), পার্ট-২

ডাঃ মোঃ বজলুর রশীদ

মেডিসিন ( Medicine), কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এম বি বি এস, এম ডি (কার্ডিওলজী)